বাঙালির রঙের উৎসব
  • ১৫ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অনির্বাণ রক্ষিত: বাঙালির বারো মাসে তের পার্বণের অন্যতম হল দোল উৎসব। দোলকে রঙের উৎসবও বলা হয়, যা ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে উদযাপিত হয়। কোথাও এই দোল পূর্ণিমাকে দোল যাত্রা বলে। আবার ফাল্গুনী পূর্ণিমাকেও দোল পূর্ণিমা বলা হয়ে থাকে। মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যের জন্ম হয়েছিল এই তিথিতে, তাই দোল পূর্ণিমাকে গৌরী পূর্ণিমাও বলা হয়। এই তিথিতে বৃন্দাবনে আবির নিয়ে শ্রীকৃষ্ণ, রাধা এবং গোপীগণের সঙ্গে হোলি খেলেছিলেন। আর সেই ঘটনা থেকে উৎপত্তি হয় দোল খেলার।

Advertisement

তবে দোল পূর্ণিমাকে ঘিরে অনেক পৌরাণিক ঘটনার কথাও প্রচলিত রয়েছে। দ্বাপর যুগের কথা। সেই সময় দুই দৈত্যের অত্যাচারে মথুরাবাসী অত্যন্ত সন্ত্রস্ত ছিল। সে সময়ে সকল মথুরাবাসী এক হয়ে শ্রীকৃষ্ণের কাছে তাদের এই অত্যাচারের কথা বলেন এবং এই অত্যাচারের হাত থেকে তাদের রক্ষা করতে অনুরোধ করেন। ঠিক ফাল্গুনী পূর্ণিমার আগের দিন শুক্লা চতুর্দশী তিথিতে শ্রীকৃষ্ণ ও বলরাম মিলে ওই দুই দৈত্যকে হত্যা করেন। এর পর সন্ধ্যার সময় শুকনো কাঠ, খড়কুটো দিয়ে তাদের আগুনে পুড়িয়ে দেন। সেই দিন থেকে ন্যাড়া পোড়া প্রচলিত হয়। এইভাবে শ্রীকৃষ্ণ দুই দৈত্যের অত্যাচার থেকে মথুরাবাসীকে মুক্তি দিলেন। মথুরাবাসী তাদের এই মুক্তির দিনটি শ্রীকৃষ্ণ ও বলরামের সঙ্গে রঙে রঙে উদযাপন করেন।

উল্লেখ্য দোল এবং হোলি একই রকম মনে হলেও এ দু’টি মূলত আলাদা অনুষ্ঠান। সাধারণত দোলের পরের দিন হোলি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। দোল নিতান্তই বাঙালিদের। আর হোলি উত্তর ও পশ্চিমভারতের হিন্দুদের উৎসব।