নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রবল ঠান্ডায় ফুলের উৎপাদন কম। যার জেরে ফুলের দামও চড়া। সামনেই সরস্বতী পুজো। তার উপর নেতাজি জয়ন্তী ও প্রজাতন্ত্র দিবসও আছে। তার জেরে ফুলের বাজার আরও আগুন হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের ফুল রয়েছে হিমঘরে। সেই তালিকায় বেশি পরিমাণ আছে গাঁদা, রজনীগন্ধা, পলাশ ইত্যাদি। কয়েকদিনের মধ্যেই হিমঘর থেকে কলকাতার ফুলবাজারে আসতে শুরু করবে সে সব ফুল।
সারা রাজ্য ফুলচাষি ও ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণচন্দ্র নায়েক জানান, দুই মেদিনীপুর, নদিয়া, দুই ২৪ পরগনা ও হাওড়া থেকে আসা ফুল হিমঘরে মজুত আছে। তাঁর বক্তব্য, ‘এর মধ্যে পাঁচ রকমের বড়-মাঝারি ও ছোট গাঁদা বেশি পরিমাণে মজুত রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ফলন কম হওয়ার কারণে সরস্বতী পুজোয় ফুলের দাম আরও চড়া হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।’ ফুল চাষিদের একাংশ জানান, অত্যাধিক ঠান্ডার কারণে ফুলের কুঁড়ি ঠিকমতো ফুটছে না। তাই ফলন কম হওয়ায় বাজারে চলতি মরশুমে দাম কিছুটা চড়া ছিল। তার উপর পুজোয় জন্য দাম আরও বৃদ্ধি পাবে।
সোমবার কলকাতার জগন্নাথ ঘাট ফুলবাজারে গিয়ে দেখা গিয়েছে, সব থেকে বেশি দাম ছিল বড়ো আকারের হলুদ রঙের গাঁদা ফুলের মালার। পাইকারি বাজারে এক-একটি গাঁদার দাম ছিল ১৫ থেকে ২০ টাকা। তা খুচরো বাজারে বিক্রি হয়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। রজনীগন্ধার মালা খুচরো বাজারে বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে ১২০ টাকায়। পাইকারি বাজারে তার দাম ৬০ থেকে ৮০ টাকা। গোলাপ দেওয়া রজনীগন্ধার মালার দাম আরও বেশি। পাঁশকুড়ার ফুলচাষি অমিয়কুমার বাগচি জানান, সরস্বতী পুজোর সময় দাম আরও চড়া হতে পারে। গোলাপ ও ডালিয়ার দামও বাড়বে।
আমতার ফুলচাষি অতুল নস্কর জানান, পুজোর সময় গাঁদা-দোপাটির ঝুরো ফুলের দামও চড়া থাকবে। উত্তর কলকাতার রবীন্দ্র সরণির খুচরো ফুল বিক্রেতা সজল সামন্ত জানান, বেলপাতার দামও খুব চড়া। চাহিদা থাকা সত্ত্বেও পরিমাণ মতো জবার মালা পাওয়া যাচ্ছে না। হিমঘরে যে পলাশ রয়েছে তাও পর্যাপ্ত নয়। ফলে পলাশের দামও বাড়তে পারে বলে আমাদের আশঙ্কা। সবমিলিয়ে পুজোর আগে মাথায় হাত মধ্যবিত্তের।