নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ‘তোরা মমতাকে ভোট দিস’—বলেই বেধড়ক মার। গায়ে পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা। এমনই অভিযোগ রঘুনাথগঞ্জের কুলগাছি বটতলার বাসিন্দা ফারুক শেখের। বিহারে ফেরি করতে গিয়েছিলেন ক’দিন আগে। বাংলাদেশি তকমা সাঁটিয়ে তাঁর উপর নির্যাতন চালায় বিহারের ভাগলপুরের একদল দুষ্কৃতী। কোনওরকমে বেঁচে ফিরেছেন বাঙালি ফেরিওয়ালা ফারুক। কিন্তু এখনও আতঙ্ক তাড়া করে বেড়াচ্ছে তাঁকে। এদিকে, ফের ওড়িশার সম্বলপুরে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিককে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়া হল। কাজ করতে গিয়ে ফের বাংলাদেশি সন্দেহে মুর্শিদাবাদের সমশেরগঞ্জের ওই শ্রমিককে হেনস্তার শিকার হতে হল। দু’টি ঘটনায় নতুন করে সরব হয়েছে জেলাবাসী। ফেরি করে সংসার টানেন ফারুক। এবার তিনি ফেরি করতে ভাগলপুরে গিয়েছিলেন। তিনি বলছিলেন, ‘আমার ছোট ছোট তিনটে ছেলে-মেয়ে রয়েছে। না খাটলে আমার চলবে না। আমাকে যদি মেরে ফেলত, এদের ভিক্ষে করা ছাড়া আর কোনও উপায় থাকত না। ওরা আমাকে পরিষ্কার বলছে, আমি বাংলাদেশি। আধার কার্ড, ভোটার কার্ড দেখালাম। তারপরেও আমাকে পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে দিতে চেয়েছিল। আমার মোবাইল কেড়ে নিল। লাথি, ঘুসি মারছিল। এমন ভাবে কানে মেরেছে যে, আমি এখনও কিছু শুনতে পারছি না।’ ফারুকের অভিযোগ, ‘বিজেপির লোকজনই আমাকে মেরেছে। দুষ্কৃতীরা পরিষ্কার বলছে, তোরা মমতাকে ভোট দিস। বিজেপিকে ভোট দিস না। মোদির ছবি হাতে নিয়ে আমাকে মেরেছে। আমার দাড়ি ধরে টানছিল। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছিল। ওরা বলছে, বাংলাদেশে তোরা আমাদের মারছিস। তোদের মেরেই ফেলব। ওদের মধ্যে কেউ কেউ বলছিল, বাংলাদেশ থেকে এসেছে, এদের পুড়িয়ে মার। ওই কথা শুনে কোনওরকমে চলে এসেছি। এখানে ভিক্ষা করব তবু ভালো, আমি আর ভিনরাজ্যে কাজে যাব না।’



