Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অতলান্তিকের ঢেউ, জাহাজের মাঝ ডেক থেকে নিখোঁজ বাংলার নাবিক

জাহাজের মাঝ ডেকে দাঁড়িয়েছিলেন ২৫ বছরের অভিজ্ঞ নাবিক শ্রীকৃষ্ণ সরকার (৪৫)। আচমকা পাহাড়ের মতো বিশাল একটি ঢেউ ডেক ভাসিয়ে দিয়ে সমুদ্রে টেনে নিয়ে যায় তাঁকে।

অতলান্তিকের ঢেউ, জাহাজের মাঝ ডেক থেকে নিখোঁজ বাংলার নাবিক
  • ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসাগর অতলান্তিক। কোথাও গভীরতা এভারেস্টের সমান। ফেব্রুয়ারি-মার্চের এই সময়টা উত্তাল থাকে সমুদ্র। জাহাজের মাঝ ডেকে দাঁড়িয়েছিলেন ২৫ বছরের অভিজ্ঞ নাবিক শ্রীকৃষ্ণ সরকার (৪৫)। আচমকা পাহাড়ের মতো বিশাল একটি ঢেউ ডেক ভাসিয়ে দিয়ে সমুদ্রে টেনে নিয়ে যায় তাঁকে। মঙ্গলবার ঘটে ঘটনাটি। তারপর থেকে আর খোঁজ মেলেনি বাঙালি নাবিকের।

Advertisement

ঘটনাটি ঘটেছে নরওয়ে জলসীমায়। সেখানকার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তল্লাশির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে হেলিকপ্টার। জলে নেমেছে ডুবুরি ও স্পিডবোট। ঢেউ ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জাহাজ কর্তৃপক্ষও তল্লাশি শুরু করেছিল বলে দাবি করেছে। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি। খোঁজ মেলেনি শ্রীকৃষ্ণ সরকারের। তাঁর বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের কাঁকপুলে। দুর্ঘটনার খবর শুনে পরিবার হতবাক। যে মার্চেন্ট নেভি সংস্থায় কর্মরত শ্রীকৃষ্ণবাবু সে সংস্থার তিন প্রতিনিধি এসেছিলেন পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে। তাঁদের কাছে সুস্থ অবস্থায় স্বামীকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্ত্রী রাখি সরকার। ১৭ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার রাতে সংস্থা ফোন করে নিখোঁজ হওয়ার খবর জানিয়েছিল পরিবারকে। ঘটনার আগের দিন, ১৬ ফেব্রুয়ারি  ছিল ১৪ বছরের পুত্র ভাস্করের জন্মদিন। ফলে শোকের মাত্রা স্বাভাবিক কারণেই দ্বিগুণ হয়ে পড়ে।
অতলান্তিক মহাসাগর দিয়ে ইউরোপের মালটা থেকে আমেরিকা যাচ্ছিল সিমেন্ট বোঝাই জাহাজটি। শ্রীকৃষ্ণ জাহাজ দেখভালের কাজ করতেন। ১৬ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ ভিডিয়ো কলে বাড়ির সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল। ছেলের জন্মদিনের কেক কাটা দেখেছিলেন ভিডিয়োয়। পরিবারকে বলেছিলেন, কাজ শেষ করে দ্রুত বাড়ি ফিরছেন। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টায় আবার ফোন করবেন বলেও জানিয়েছিলেন। কিন্তু তার আগেই সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় মার্চেন্ট নেভি সংস্থা ফোন করে দুঃসংবাদ শোনায়। 
স্ত্রী রাখি সরকার, তিন বছরের কন্যা ঐশী ও ১৪ বছরের ছেলে ভাস্কর রয়েছে শ্রীকৃষ্ণবাবুর পরিবারে। পরিবারের দাবি, জাহাজ সংস্থা জানিয়েছে অসাবধানতাবশত মাঝসমুদ্রে পড়ে যান শ্রীকৃষ্ণ। তবে কিভাবে এই ঘটনা ঘটল তা এখনও পরিবারের কাছে পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি। শ্রীকৃষ্ণের শ্যালক সোম সরকার বলেন, ‘জাহাজের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ঠিক কী ঘটেছে, তা জানাতে সংস্থাকে অনুরোধ করেছি।’ এর পাশাপাশি জানা গিয়েছে, নরওয়ে পুলিশ জাহাজটিকে নিকটতম বন্দরে আসতে নির্দেশ দিয়েছে। সেখানে তদন্ত করবে তারা। জাহাজে থাকা সিটিটিভি ফুটেজ দেখবে।
পরিবারের প্রার্থনা, সুস্থ অবস্থায় ফিরে আসুন শ্রীকৃষ্ণ। ভাস্কর বলেছে, ‘ওইদিন রাতে আমার সঙ্গে কথা হয়েছিল ভিডিও কলে। আমার জন্মদিনে ভালোবাসা জানিয়েছিল। আর আমার জন্মদিনেই বাবা হারিয়ে গেল। কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। আমাদের একটাই দাবি বাবাকে সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফেরানো হোক।’

সম্পর্কিত সংবাদ