• সাম্প্রতিক সঙ্গীতের দুনিয়ায় নবাগতরা কি বিভ্রান্ত? এ প্রশ্ন বহু আলোচনায় উঠেছে। সম্প্রতি জি বাংলার জনপ্রিয় রিয়ালিটি শো সারেগামাপা-এ বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন কুমার শানু। তিনি নবাগতদের বিভ্রান্তির জন্য আঙুল তুললেন সমাজব্যবস্থার দিকে। ‘সময় বদলাচ্ছে। পাল্লা দিয়ে বদলাচ্ছে সামাজিক রীতি রেওয়াজ। আগের মতো অনেক কিছু এখন আর নেই। সোশ্যাল মিডিয়াই এর জন্য দায়ী’, বললেন শানু। তবে যে কোনও পরিস্থিতিতে পজিটিভ থাকতে ভালোবাসেন শিল্পী। তিনি মনে করিয়ে দিলেন, ‘যাঁরা সঠিক দিশায় মনঃসংযোগ বজায় রেখে চর্চা করার, তাঁরা ঠিক তা করছেন। কিন্তু শিক্ষা সম্পূর্ণ হল না। হঠাৎ একটা গান গেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেড়ে দিলাম। ওভাবে হয় না। শিখে শ্রোতার দরবারে এসো। ওঁরাই সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক।’
সারেগামাপা-এর মঞ্চে এবার কুমার শানুর উপস্থিতি ভিন্ন ভূমিকায়। তিনি জানালেন, নব্বই-এর দশকে তাঁর হিট গানগুলো নিয়ে কয়েকটা এপিসোড হচ্ছে। সেখানে উপস্থিত থাকতে পেরে তিনি সম্মানিত। ‘নতুন শিল্পীরা আমার গাওয়া গান গাইছেন। তাঁদের সঙ্গে আমিও গলা মেলাচ্ছি’, হেসে বললেন তিনি। নতুন প্রজন্মের মধ্যে প্রতিভার সন্ধান পান? প্রশ্ন শুনে একটু থেমে শানু বললেন, ‘বাংলা তো প্রতিভার খনি। নাম বলব না, এক এক শিল্পী যা গাইছেন, অনায়াসে ওঁরা মুম্বইতে গিয়ে গাওয়ার ক্ষমতা রাখেন। এত কম বয়সে ওঁদের ট্যালেন্ট দেখে আমি স্তম্ভিত। ঠিক মতো চর্চা, রেওয়াজ বজায় রাখলে একদিন ঠিক ওঁরা সফল হবেন।’ অথচ শো শেষ হয়ে গেলে দেখা যাচ্ছে অনেকেই হারিয়ে যাচ্ছেন। শানুর মতে, ‘একটা রিয়ালিটি শো কোনও সঙ্গীত শিল্পীর শেষ গন্তব্য হতে পারে না। এটা শুরু। তারপর নিজেকে সঠিক পথে চালনা করাটাই কঠিন। যিনি নিজেকে সাধনায় ডুবিয়ে রাখতে পারবেন, তাঁর স্বীকৃতি একশো শতাংশ নিশ্চিত।’
মুম্বই-এ সংসার। কর্মভূমি। হিন্দি ছায়াছবির গান তাঁকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিলেও জন্মভূমি কলকাতার টানে বারবার ফিরে আসেন। স্মৃতিমেদুর শানু বলেন, ‘আমি তো কলকাতায় আসি না। বাড়ি আসি। এখানেই তো আমার প্রথম সব কিছু।’ কোন মন্ত্রে এসেছে তাঁর সাফল্য? ‘যা করেছি, যতটুকু করেছি হৃদয় দিয়ে করেছি। মা, বাবা, গুরুজনদের কখনও অসম্মান করিনি। আর এখনও মাটিতে পা রেখেই চলি’, অকপট সঙ্গীতশিল্পী। নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন দেখা প্রতিভাদের প্রতি শানুর পরামর্শ, ‘সাফল্যের কোনও সহজ রাস্তা নেই। তুমি জীবনে কী করলে সেটা বড় কথা নয়, তোমাকে কতগুলো মানুষ মনে রাখল সেটাই আসল সাফল্যের মাপকাঠি।’