Bartaman Logo
২৯ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাজস্থানে বাংলার কিশোরীরা যেন পণ্য! বহুবার বিক্রি, হাড়হিম অভিজ্ঞতা ভুক্তভোগীদের

রাজস্থানে বাংলার নাবালিকারা যেন পণ্য। দরদাম হেঁকে কেনাবেচা হয়। তাও একবার নয়, একাধিকবার বিক্রি হতে হয়। একসঙ্গে পাঁচ থেকে সাতজন ক্রেতা আসে।

রাজস্থানে বাংলার কিশোরীরা যেন পণ্য! বহুবার বিক্রি, হাড়হিম অভিজ্ঞতা ভুক্তভোগীদের
  • ১১ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: রাজস্থানে বাংলার নাবালিকারা যেন পণ্য। দরদাম হেঁকে কেনাবেচা হয়। তাও একবার নয়, একাধিকবার বিক্রি হতে হয়। একসঙ্গে পাঁচ থেকে সাতজন ক্রেতা আসে। ৮-১০ লক্ষ টাকায় নাবালিকারা বিক্রি হয়। দু’বছর আগে রায়না থানা এলাকা থেকে এক নাবালিকা নিখোঁজ হয়ে যায়। সিবিআই তাকে দু’দিন আগে রাজস্থানের পালি জেলা থেকে উদ্ধার করেছে। এর আগে পুলিস গলসির এক নাবালিকাকেও রাজস্থান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। সে বলে, পাচারকারীরা রাজস্থানে নিয়ে গিয়ে একটি ঘরে আটকে রেখেছিল। দু’দিন পর অপরিচিত তিনজন আসে। তারা সামনে বসিয়ে দেখতে থাকে। তারা পাঁচ লক্ষ টাকা দাম দেয়। সেইদিনই তারা ওই ঘর থেকে তাকে অন্য এক জায়গায় নিয়ে যায়। জোর করে একজনের সঙ্গে বিয়ে দেয়। কয়েক মাস থাকার পর সে ওই নাবালিকাকে অন্যজনের কাছে বিক্রি করে দেয়।

Advertisement

ওই নাবালিকা বলে, সেইসময় এরাজ্যে কয়েকজন মেয়ের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। তাদেরকেও পাচারকারীরা ফুঁসলিয়ে রাজস্থানে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে দেয়। সেখান থেকে কারও পক্ষে একা ফিরে আসা সম্ভব নয়। সবসময় নজরদারি চলে। তারা ফোন পর্যন্ত দেয় না। কেউ লুকিয়ে বাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা বললে তার উপর অত্যাচার করা হয়।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, গলসির ওই নাবালিকাকে মেমারির এক যুবক কাজের টোপ দিয়ে রাজস্থান গ্যাংয়ের হাতে তুলে দেয়। রায়নার নাবালিকাকেও  পাচারকারীরা প্রলোভন দেখিয়ে জালে জড়িয়ে নেয়। সিবিআই তাকে পাচার করার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের মধ্যে মিনা দোপুবেন বলে একজন মহিলা রয়েছে। ধৃতরা সকলেই রাজস্থানের বাসিন্দা। ২০২০ সালের ৯ আগস্ট ওই নাবালিকা টিউশন পড়তে বের হয়। তারপর আর বাড়ি ফেরেনি। নাবালিকার পরিবারের লোকজন খণ্ডঘোষ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পুলিস এলাকার দু’জনকে গ্রেপ্তারও করেছিল। কিন্তু, নাবালিকার হদিশ পায়নি। আদালতের নির্দেশে সিবিআই তদন্তভার নেয়। দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করার পর পুলিস ওই নাবালিকাকে উদ্ধার করেছে।
পুলিস সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, রাজস্থানের নারী পাচারকারীরা এরাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে জাল ছড়িয়ে রেখেছে। তারা প্রতিটি জেলায় স্থানীয় এজেন্ট নিয়োগ করে। তারাই কখনও কাজের টোপ দিয়ে, আবার কখনও ভালোবাসার অভিনয় করে নাবালিকাদের মগজ ধোলাই করে। কয়েক মাস পর তারা মোটা টাকার বিনিময়ে নাবালিকাদের রাজস্থান গ্যাংয়ের হাতে তুলে দেয়।
রাজস্থান থেকে উদ্ধার হওয়া এক নাবালিকা বলে, রাজস্থানে পাচারকারীদের কথামতো না চললে অত্যাচার করা হতো। যৌন নির্যাতন মুখ বুজে সহ্য করতে হতো। কেউ প্রতিবাদ করলেই মারধর চলত। কিনে নেওয়ার পর তারা লোকদেখানো বিয়ে করে। কিন্তু, কোনও স্বাধীনতা থাকে না। যখন খুশি তারা আবার অন্যজনের কাছে বিক্রি করে দেয়। সেখানে গিয়েও আবার নতুন করে অত্যাচার সহ্য করতে হতো।

সম্পর্কিত সংবাদ