Bartaman Logo
২৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এবারের ভোট প্রচারে আদিবাসী নাচ-ঢাক, জনতার মন কেড়েছে বাংলার লোকসংস্কৃতি, শিল্পীদের দৈনিক আয় ৫০০-৮০০ টাকা

এবার বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই যেমন ছিল, তেমনই ছিল রং-বেরঙের প্রচার। ভোট ঘোষণার পর থেকেই প্রচারের ময়দানে নেমে পড়েছিলেন বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা।

এবারের ভোট প্রচারে আদিবাসী নাচ-ঢাক, জনতার মন কেড়েছে বাংলার লোকসংস্কৃতি, শিল্পীদের দৈনিক আয় ৫০০-৮০০ টাকা
  • ৪ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অতূণ বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: এবার বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই যেমন ছিল, তেমনই ছিল রং-বেরঙের প্রচার। ভোট ঘোষণার পর থেকেই প্রচারের ময়দানে নেমে পড়েছিলেন বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা। প্রার্থীর নাম ও প্রতীক আঁকা ব্যানার, ফ্লেক্স, পতাকার পাশাপাশি লোকসংস্কৃতির নানা ধারাও যুক্ত হয়েছিল প্রচারে। ছিল আদিবাসী নৃত্য, ধামসা-মাদল, রণ-পা, মুখোশ, ঢাকির দল। লোকশিল্পীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে বর্ণময় হয়ে উঠেছিল প্রার্থীদের প্রচার। সঙ্গে ছিল থিম সং, যা এবারের ভোট প্রচারকে অন্যমাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে।

Advertisement

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে বাংলার লোকশিল্পীরা সরকারি স্বীকৃতি পেয়েছেন। শুধু তাই নয়, তাঁরা যাতে সারা বছর কাজ পান, সেকারণে তাঁদের লোকসংস্কৃতি বিভাগের অন্তর্ভুক্তও করা হয়েছিল। ফলে এই শিল্পীরা যেমন অনুষ্ঠান করে অর্থ উপার্জন করতে পেরেছেন, তেমনই পেয়েছেন শিল্পীর সম্মান। ভোটের বাজারে গ্রাম থেকে আসা এই শিল্পীরাই প্রচারের আঙিনাকে জমিয়ে তুলেছেন। সব দলই সংস্কৃতির এই ধারাকে সামনে রেখে পদযাত্রা, রোড’শো করেছে। কোথাও পুরুষ ঢাকি, কোথাও আবার মহিলা ঢাকির দল দুই কাঠিতে বোল তুলে সাড়া ফেলেছে প্রচারে। আবার আদিবাসী বেশে রমণীদের নাচ মাতিয়েছে উপস্থিত জনতাকে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলার বাসিন্দা নিরঞ্জন মাহাত কিংবা হলদিয়ার মানস মণ্ডল বা মছলন্দপুরের গৌতম দাসের দল গ্রাম-নগর, মাঠ-পাথার দাপিয়ে প্রচার করেছে এবারের ভোটে। নিরঞ্জনবাবু আদিবাসী নাচের দল নিয়ে ঘুরে বেরিয়েছেন বিভিন্ন কেন্দ্রে। মানস মণ্ডলের দলের হাতিয়ার ছিল মুখোশ। আর গৌতম দাসের সঙ্গে ছিল পুরুষ ও মহিলা ঢাকির দল। এক-একটি দলে ছিলেন ২০ থেকে ৩০ জন। তবে নজর কেড়েছে মহিলা ঢাকির দল। তাঁরা সংখ্যায় অনেক বেশি। জনা পঞ্চাশ তো হবেই। মনোনয়ন পেশের দিন থেকে তো তাঁদের দম ফেলার ফুরসত ছিল না। প্রচার শেষের শেষলগ্ন পর্যন্ত রাজপথ দাপিয়ে অনুষ্ঠান করেছেন তাঁরা। কখনও ঘাসফুলের হয়ে, আবার কখনও পদ্মফুলের হয়ে। এমনকি, মার্কসীয় তত্ত্ব আওড়ানো সিপিএমও তাদের প্রচারে ব্যবহার করেছে লোকসংস্কৃতিকে।
টানা পঁচিশ দিন ভোটের প্রচারে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে থেকে উপার্জন হল কত? গৌতম দাস বলছিলেন, দিনে একেকজন শিল্পী ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত আয় করেছেন। তবে মহিলা ঢাকিদের তুলনায় পুরুষ ঢাকিদের দৈনিক আয় কিছুটা বেশি। তাঁর কথায়, জয়নগর, ক্যানিং, বিষ্ণুপুর, বারুইপুর, ভবানীপুর, দমদম, নিউটাউন, মানিকতলা সর্বত্রই প্রচারে শামিল হয়েছিলেন তাঁরা। যেখানেই গিয়েছেন, কদর পেয়েছেন শিল্পীরা। বাংলার আদিবাসী নৃত্য, ধামসা-মাদল থেকে শুরু করে চলমান মুখোশ কিংবা মহিলা ঢাকির বাদ্যি মন কেড়েছে সবার। ভোটের ফল বেরনো বাকি। ফল বেরলে বিজয় উৎসবের জন্য আরেকপ্রস্থ বায়না আসবে, বলছিলেন মানস মণ্ডল ও নিরঞ্জন মাহাত। তখন আবার কলকাতা ও শহরতলিতে আসতে হবে ঢাক-ঢোল নিয়ে। শহরের রাস্তা ফের মুখরিত হবে শিল্পীদের যৌথ অংশগ্রহণে। তাই আজ, সোমবার তাঁদের চোখ থাকবে টিভির পর্দায় কিংবা মুঠোফোনে। নতুন বায়নার অপেক্ষায় প্রহর গোনা শুরু।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ