নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: কোথাও আবর্জনার স্তূপ, কোথাও আবার পিলারের গায়ে পান-গুটকার পিকের লাল ছোপ। হাওড়া পুরসভার পাশেই বঙ্কিম সেতুর নীচে চার্চ রোডের এই চেনা ছবি এবার বদলে দিতে উদ্যোগী জেলা প্রশাসন। আর সেই বদলের কারিগর পল্লব, পর্ণাভ, সুস্মিতা, সৌমিদের মতো একঝাঁক তরুণ শিল্পী। তাঁদের তুলির টানে কংক্রিটের পিলারে ফুটে উঠছে বাংলার কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। জীর্ণ চেহারা ছেড়ে এই এলাকাকে নতুন করে সাজিয়ে তোলার এই উদ্যোগে এখন ব্যস্ত জেন-জি’রা।
চার্চ রোডে বঙ্কিম সেতুর ১৪টি পিলারই হয়ে উঠেছে শিল্পীদের ক্যানভাস। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আটজন তরুণ শিল্পীর একটি দল এই কাজ করছে। প্রত্যেকেই দ্য ইন্ডিয়ান কলেজ অব আর্টস অ্যান্ড ড্রাফটম্যানশিপের পড়ুয়া। কোথাও মা দুর্গার মুখ, কোথাও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ। আবার কোথাও হাওড়া ব্রিজ, হাওড়া স্টেশন থেকে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল। বাঙালির আড্ডার অন্যতম সঙ্গী মাটির চায়ের ভাঁড়ও বাদ যায়নি এই তালিকা থেকে। পরিচিত শহুরে পরিসরে এভাবেই বাংলার ঐতিহ্যকে রঙিন ছবিতে তুলে ধরছেন তরুণ প্রজন্মের শিল্পীরা। এদিন সেখানে গিয়ে দেখা গেল, পিলারের পাশে বাঁধা বাঁশের মাচায় উঠে একমনে দুর্গার মুখ আঁকছেন সুস্মিতা শী ও সৌমি গুঁই। তাঁদের কাজ দেখতে দাঁড়িয়ে পড়ছেন পথচলতি মানুষ। শিল্পী পল্লবকুমার কারকের কথায়, মাত্র তিনদিন হল কাজ শুরু হয়েছে। দীপাবলির মধ্যেই তা শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলার সংস্কৃতিকে প্রাধান্য দিয়েই সাজানো হচ্ছে পিলারগুলি।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আঁকার কাজ শেষ হলে আলোকসজ্জার মাধ্যমে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা হবে এলাকাটিকে। দিনের পাশাপাশি রাতেও যাতে এখানে ছবি বা সেলফি তোলার জন্য মানুষ ভিড় করেন, সেই পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই সৌন্দর্যায়নের পথে বাধাও চোখে পড়েছে শিল্পীদের। কাজ শুরুর দু’দিনের মধ্যেই পিলারের নীচে কোথাও কোথাও পান-গুটকার পিকে নষ্ট হচ্ছে রঙের কাজ। তাই তাঁদের আবেদন, নিজেদের শহরের এই নতুন সাজকে মর্যাদা দিন। পিলারগুলিকে নোংরা না করে পরিচ্ছন্ন রাখুন।



