নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ১৫ দিনের স্ব-গণনা বা সেলফ ইনিউমারেশনের কাজ শেষ হয়েছে বঙ্গে। আর স্ব-গণনার এই কাজে দেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। বঙ্গের ৫৩ লক্ষের বেশি নাগরিক সেলফ ইনিউমারেশনে অংশ নিয়েছেন। রবিবার একথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘১ আগস্ট থেকে আমি শুরু করেছিলাম। ওইদিন অন্যরাও করেছিলেন সেলফ ইনিউমারেশন। সারা দেশের মধ্যে এখন প্রথম হয়েছি আমরা। আমাদের রাজ্যে ৫৩ লক্ষ ১৩ হাজার ৫৮৯ জন নাগরিক স্ব-গণনা করেছেন। দেশে এটাই সম্ভবত সর্বোচ্চ। আমাদের কমপ্লিশন রেট ৯৩.৮৪ শতাংশ।’
গত ১ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সেলফ ইনিউমারেশন হয়েছে রাজ্যে। স্ব-গণনাকে জনপ্রিয় করে তুলতে কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ সর্বত্র নানা ধরনের পন্থা অবলম্বন করেছেন জনগণনার কাজে যুক্ত প্রশাসনিক আধিকারিকরা। লাগাতার প্রচার হয়েছে। বিশেষ করে কলকাতা পুর এলাকায় প্রচার ছিল চোখে পড়ার মতো, অভিনব। কিন্তু ফল মিলেছে উলটো। রাজ্যের মধ্যে অন্যতম কম বা পিছনে সারিতে থাকা জেলা হিসাবে উঠে এসেছে কলকাতা। অন্যদিকে, মালদহ মুর্শিদাবাদ উত্তর ২৪ পরগনার মতো জেলা তাৎপর্যপূর্ণভাবে এগিয়ে। বঙ্গে রাজধানী অর্থাৎ কলকাতা এবং সংলগ্ন শহরাঞ্চলের জেলাগুলি কিছু জেলাতে স্ব-গণনার অন্তর্ভুক্তি হার অতটা ভালো নয়। উলটে বিভিন্ন জেলা বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলি সেলফ ইনিউমারেশনে রাজ্যের মধ্যে প্রথম সারিতে। রাজ্যের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে মালদহ জেলা। সেখানে ৯ লক্ষ ৫৯ হাজারের বেশি নাগরিক অংশ নিয়েছেন স্ব-গণনায়। প্রথম সারিতে রয়েছে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, নদীয়ার মতো জেলা।
অন্যদিকে, সূত্রের খবর, এক লক্ষের কম নাগরিকরা স্ব-গণনায় অংশ নিয়েছেন, এমন জেলার তালিকায় রয়েছে কলকাতা। শহরে মাত্র ৯৩,৭৪৫ জন নাগরিক সেলফ ইনিউমারেশনে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে কাজ সম্পূর্ণ করে ১১ ডিজিটের আইডি পেয়েছেন ৮১,৫৬২ জন। আর বাকি ১২,১৮৩ জন নাগরিক পোর্টাল খুলে করার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু পুরোপুরি সম্পূর্ণ করেননি সেলফ ইনিউমারেশন। শহরতলিতে হাওড়া-হুগলির সেলফ ইনিউমারেনশনের হারও খুব একটা ভলো নয়। রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে কম কালিংপং জেলার মাত্র ১৯,৮৫৫ জন নাগরিক স্ব-গণনায় অংশ নিয়েছেন। পিছনের সারিতে তারপরে রয়েছে পুরুলিয়া জেলা। সেখানে মাত্র ৩৫,১১৫ জন নাগরিক সেলফ ইনিউমারেশনে অংশ নিয়েছেন। অন্যদিকে, রবিবার থেকে বাড়ি-বাড়ি গণনার কাজ শুরু করেছেন ইনিমারেটর বা গণনাকারীরা। আপাতত তিনদিন বাড়ি বাড়ি নাম্বারিং করা হবে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় রবিবার বিকেল পর্যন্ত প্রায় এক লক্ষ বাড়ির নম্বর দেওয়ার কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু কেন এই পার্থক্য? প্রশাসনের একাংশ মনে করছেন, কোথাও হয়তো ভয় কাজ করছে নাগরিকের মনে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, শীর্ষে থাকা এই জেলাগুলিতেই এসআইআরে তুলনা-মূলক বেশি নাম বাদ গিয়েছিল। সেক্ষেত্রে হয়তো মানুষের মধ্যে কোথাও কি ভয়-ভীতি কাজ করছে, সেই প্রশ্ন উঠেছে। ফলে এই জেলাগুলির মানুষ দ্রুত তথ্য আপলোড করেছেন।