


প্রীতেশ বসু, কলকাতা: রাজ্যে পরিবর্তনের পরদিনই সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে কোমর বাঁধতে শুরু করে দিল নবান্ন। অসুরক্ষিত বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার দিতে রাজ্যের থেকে জমি চাওয়া হয়েছিল বিএসএফের তরফে। কিন্তু, এখনো ৯০ একর জমি দেওয়ার জন্য মন্ত্রিসভার প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেই। আবার অনুমোদিত ১,৪৮৭ একর জমির মধ্যে এখনো ১,০৯৪ একর জমি বিএসএফকে হস্তান্তরের কাজও বাকি থেকে গিয়েছে। মাত্র ৩৯৩ একর হস্তান্তর সম্ভব হয়েছে।
আগামী ৯ মে শপথ নেবেন পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী। গঠিত হবে নতুন মন্ত্রিসভা। তারপরেই গতি বাড়িয়ে বিএসএফকে দ্রুত জমি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। ফলে সীমান্তবর্তী যে-সমস্ত জেলায় জমি দেওয়া বাকি রয়েছে তার তালিকা তৈরির করল নবান্ন। মূলত দুটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। প্রথম তালিকাটি হল কাঁটাতার দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমির খুঁটিনাটি। আর দ্বিতীয় তালিকায় রয়েছে বর্ডার আউটপোস্ট তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় জমির হিসাব।
রাজ্যে প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও এরাজ্যে নির্বাচনি প্রচারে এসে বিএসএফকে জমি না দেওয়ার অভিযোগে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে। একইসঙ্গে আশ্বাস দিয়েছিলেন এই কাজে গতি এনে সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা নিয়ে। সেক্ষেত্রে শপথগ্রহণের পরই এবিষয়ে তৎপরতার সঙ্গে কাজ শুরু হবে বলেই ধরে নিচ্ছে প্রশাসনিক মহল। আর সেই কারণেই তালিকা তৈরি করে রাখা হচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, সীমান্ত সুরক্ষার জন্য জমি দেওয়া নিয়ে মামলা গিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত। আদালতও রাজ্যকে দ্রুত জমি হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে, যে-পরিমাণ জমি দেওয়া হয়েছে তাতে মাত্র ৭১ কিমি সীমান্ত বরাবর কাঁটাতার দেওয়া সম্ভব হয়েছে। কিন্তু, ১,৪৮৭ একর জমি না দেওয়ার ফলে ২৫৭.৪ কিমি দৈর্ঘ্য বরাবর কাঁটাতার দেওয়ার কাজ এখনো থমকে। আবার এরাজ্যে সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের মোট ১৭টি বর্ডার আউটপোস্ট তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে বিএসএফ। একেকটি অটপোস্ট তৈরির জন্য প্রয়োজন পড়ে মাত্র ২ থেকে ৩ একর জমি। তার মধ্যে মাত্র নয়টির জমি হস্তান্তর হয়েছে। বাকি আটটির জমিও যাতে দ্রুত দিয়ে দেওয়া যায় তারও পদক্ষেপ করা হবে। এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বিজেপির সরকার এলেই কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় বজায় থাকবে। সেক্ষেত্রে সীমান্ত সুরক্ষা সুনিশ্চিত করার কাজ আগামী পাঁচ থেকে ছয়মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে।
নবান্ন সূত্রে খবর, প্রতিটি দপ্তরে দীর্ঘদিন যে-সমস্ত কাজ নানা কারণে আটকে রয়েছে, তার তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা। এই নির্দেশ পাওয়ামাত্রই প্রতিটি দপ্তর সেই তালিকা তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে বলেই সূত্রের খবর।