নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ডবল ইঞ্জিন সরকার হলে বন্ধ কারখানার জমিতে নতুন শিল্প আসবে। বিগত বিধানসভা নির্বাচনে শিল্পাঞ্চলবাসীর কাছে এটাই ছিল বিজেপির সবচেয়ে বড় প্রতিশ্রুতি। সরকার গঠনের তিন মাসের মাথায় এ নিয়ে প্রথম বড় পদক্ষেপ সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, আসানসোলের ঢাকেশ্বরীতে বন্ধ কটন মিলের জমিতে নতুন শিল্পতালুক গড়তে চায় রাজ্য। কেন্দ্রের বিশেষ প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা পেতে দিল্লিতে দরবারও করেছে রাজ্য সরকার। এতেই স্বপ্ন দেখা শুরু করেছে আসানসোল দুর্গাপুরের মতো শিল্পকেন্দ্রিক শহরের বাসিন্দারা। আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা এলাকায় দামোদর নদের তীর বরাবর গড়ে উঠেছিল বিশালাকার ঢাকেশ্বরী কটন মিল। হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। ছিল শ্রমিকদের আবাসন। এক মিনি টাউনশিপের রূপ নিয়েছিল এই এলাকা। বাম আমলেই সেই কটন মিল বন্ধ হয়ে যায়। তৃণমূল সরকার এই কটন মিলে নতুন শিল্প আনার চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি। জঙ্গলের রূপ নিয়েছে এলাকা। সেই বিপুল জমিতে এবার শিল্পতালুক গড়ার উদ্যোগ নিল বিজেপি সরকার। জানা গিয়েছে প্রায় দু’শো একর জমির মধ্যে দেড় একর জমিতে শিল্পতালুক গড়ার অনুমোদন চাওয়া হয়েছে দিল্লির কাছে। ভারত ঔদ্যোগিক বিকাশ যোজনার মাধ্যমে কেন্দ্র যে একশোটি শিল্পতালুক দেশে গড়তে চলেছে তারমধ্যে এই শিল্পতালুকটিকে ঠাঁই দিতে চায় রাজ্য সরকার। এই উদ্যোগ সফল হল কুলটি, আসানসোল দক্ষিণ, আসানসোল উত্তর বিধানসভা এলাকার যুবক যুবতীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। রাজ্যে বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী পাঁচ ক্যাবিনেট মন্ত্রীকে নিয়ে একটি মন্ত্রিগোষ্ঠী তৈরি করে দিয়েছেন। সেই মন্ত্রিগোষ্ঠীর অন্যতম সদস্য অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, রাজ্যে পালাবদলের পর বাংলায় ব্যাবসায়ীরা বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। ঢাকেশ্বরী কটন মিলে শিল্পতালুক গড়ার উদ্যোগ বহুদূর এগিয়ে গিয়েছে। এলাকাটি আমার বিধানসভা এলাকার মধ্যেই। এছাড়া বারাবনি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে থাকা রূপনারায়ণপুরের হিন্দুস্থান কেবলসে জমিতে কারখানা গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানেও বিপুল জমি পড়ে রয়েছে। তৃণমূল আমলে ওই জমিতে নানা অসামাজিক কাজ হয়েছে। ডবল ইঞ্জিন সরকারে তা হবে না। এছাড়াও আসানসোলে সেনর্যালে সাইকেল কারখানা জমি ও আসানসোলের গ্লাস ফ্যাক্টরির জমিতেও নতুন শিল্প আনার চেষ্টা চলছে। হিন্দুস্থান কেবলস খোলার প্রতিশ্রুতি বিজেপি নতুন নয়। ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে হিন্দুস্থান কেবলস খোলার দাবি করে কারখানার গেটে আবিরও খেলে যান আসানসোলের তৎকালীন বিজেপি এমপি। প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট বৈতরণি পার হলেও কারখানা খোলেনি। যদিও রাজ্যে পালাবদলের পর মানুষ আশায় বুক বেঁধেছেন। আসানসোলের কর্মপ্রার্থী বিবেক মণ্ডল, দীপক শর্মা বলেন, আমরা আইটিআই পাশ করেছি। বন্ধ কারখানায় নতুন শিল্প এলে চাকরি পাওয়ার সুযোগ বাড়বে।



