প্রীতেশ বসু, কলকাতা: পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের নগরোন্নয়ন খাতের টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই বাংলা বঞ্চিত। যেসব পুরসভার (নন মিলিয়ন সিটি) জনসংখ্যা ১০ লক্ষের কম, তারা ছাড়াও কলকাতা, হাওড়া, আসানসোলের মতো মিলিয়ন প্লাস সিটিরও এই খাতের কোটি কোটি টাকা আটকে রেখেছে কেন্দ্র। এই পরিস্থিতিতেও দীর্ঘদিন লড়াই চালিয়ে ৪৬২ কোটি টাকার ন্যায্য প্রাপ্য আদায় করল রাজ্য। নবান্ন সূত্রের খবর, গত অর্থবর্ষেই রাজ্যের এই টাকা পাওয়ার কথা ছিল। সেটা শেষমেশ দেওয়া হল ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের একেবারে শেষলগ্নে এসে। শুক্রবার রাজ্যকে চিঠি দিয়ে এই অর্থ প্রদানের বিষয়টি কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে।
কয়েকমাস আগে রাজ্যকে নন মিলিয়ন প্লাস সিটির জন্য ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের প্রথম কিস্তির মাত্র ৩৫৭ কোটি টাকা কেন্দ্র দিয়েছিল। ওই বাবদ রাজ্যের প্রাপ্য ছিল প্রায় ১,০৬৬ কোটি টাকা। বিভিন্ন কারণে মিলিয়ন প্লাস সিটির জন্য বরাদ্দ অর্থ প্রাপ্তি থেকে বাংলাকে বঞ্চিত রাখা হয়েছিল। কার্যত বাধ্য হয়েই রাজ্যের তরফে সেই টাকা নন মিলিয়ন প্লাস সিটির জন্য বরাদ্দ করতে আবেদন জানানো হয় কেন্দ্রের কাছে। পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে এমন নিয়ম রয়েছে বলেই জানা গিয়েছে। তার উপর ভিত্তি করেই মিলিয়ন প্লাস সিটির টাকা নন মিলিয়ন প্লাস সিটির জন্য বরাদ্দ করা হল। মত প্রশাসনিক মহলের। এই অর্থ ব্যবহার করে রাজ্যের ১১৮টি (নন মিলিয়ন প্লাস) পুর এলাকায় বিভিন্ন পরিকাঠামোর উন্নয়ন করা হবে।
প্রসঙ্গত, এর আগের ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি পুরসভার টাকা আটকে দিয়েছিল কেন্দ্র। পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্যের জিএসডিপি বৃদ্ধির হারের তুলনায় সংশ্লিষ্ট পুরসভার সম্পত্তি কর আদায়ের হার বেশি হলে তবেই মেলে এই খাতের টাকা। নির্বাচিত বোর্ড থাকাও বাধ্যতামূলক। এই সমস্ত শর্ত পূরণ না-হওয়ার অজুহাতে অনেকগুলি পুরসভার টাকা আটকে দিয়েছিল রাজ্য। ফলে এই সমস্ত পুরসভার প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য একসঙ্গে নিয়ে টাকা আদায়ের জন্য রাজ্য জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। সূত্রের খবর, বঞ্চিত অনেকগুলি পুরসভার ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় তথ্য ইতিমধ্যে কেন্দ্রের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।