নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতাসহ শহরতলি এলাকার বাজারগুলিতে জ্যোতি আলুর খুচরো দর যাচ্ছে কেজি প্রতি ২০ টাকা। কিন্তু হিমঘরে আলু রেখে বিপুল ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষি ও অন্য কিছু মানুষ। এই পরিস্থিতি থেকে বেরতে রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ চাইল হিমঘর মালিকদের সংগঠন। রাজ্য হিমঘর সংগঠনের তরফে শুক্রবার এক সাংবাদিক বৈঠকে জানানো হয়, নির্দিষ্ট দামে আলু কেনার পাশাপাশি সরকার আরও কয়েকটি ব্যবস্থা নিলে সংশ্লিষ্ট চাষিদের কিছুটা আর্থিক সুরাহা হবে। এই ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যাকে তারা চিঠিও দিয়েছে।
কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি শুভজিৎ সাহা বলেন, হিমঘরের রাখা আলুর বেশিরভাগটাই চাষিদের। ৫০ কেজি আলুর বস্তার বন্ড বেচে এখন মাত্র ৩০০ টাকা পাওয়া যাচ্ছে। অর্থাৎ প্রতি কেজি আলুর দাম মিলছে মাত্র ৬ টাকা। অথচ নতুন আলুর দাম ছিল ৯-১০ টাকা কেজি। হিমঘরের ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ মেটানোর পর প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১১-১২ টাকায়। হিমঘর মালিকদের পাশাপাশি প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির কর্তা লালু মুখোপাধ্যায় জানান, এই পরিস্থিতিতে খুচরো বাজারে জ্যোতি আলুর দাম এতটা বেশি হওয়া উচিত নয়। ২০ টাকার কমেই তা পাওয়ার কথা। হিমঘর মালিক ও ব্যবসায়ীদের সংগঠনের দাবি, বাজারে আলুর খুচরো দাম এত বেশি কেন, তা সরকারকে দেখতে হবে। হিমঘর মালিকরা জানান, তাঁরা চাইছেন রাজ্য সরকার ৯ টাকা কেজি দরে আলুর বন্ড কিনুক আর হিমঘর থেকে বেরনোর পর তা কিনে নিক ১৫ টাকা দরে। এতে চাষিদের কিছুটা সুবিধা হবে। সরকার আলু কিনতে শুরু করলে পাইকারি বাজারে তার প্রভাব পড়বে। কিন্তু খুচরো বাজারে এখন যে দামে আলু বিক্রি হচ্ছে তার উপর বিশেষ প্রভাব পড়ার কথা নয়। ভিন রাজ্যে আলু পাঠানোর জন্য পরিবহণ ভর্তুকি খাতে সরকার কিছু টাকা দিলে বাইরে আলু পাঠানো বাড়বে। সাম্প্রতিক অতীতে সরকারই এটা করেছে। হিমঘর মালিকদের দাবি, এবার বাংলার হিমঘরগুলিতে রেকর্ড পরিমাণ—প্রায় ৭৪ লক্ষ টন আলু মজুত হয়েছে। তবে ভিন রাজ্যে এর চাহিদা কম।