নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: বিহারের জঙ্গলরাজের থেকেও বর্তমানে রাজ্যের খারাপ অবস্থা। আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু নেই। কর্মীরা প্রতিদিন মার খাচ্ছেন। এবার প্রতি ব্লকের কর্মীদের নিয়ে মিটিং করব। দুই বর্ধমানেই এই কর্মসূচি হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও মিটিং করতে আসবেন। সোমবার দুর্গাপুরে নিজের বাসভবনে একথা বলেন বর্ধমান দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস এমপি কীর্তি আজাদ। ডিম মারলে কী করবেন? এই প্রশ্নের উত্তরে বিশ্বকাপ জয়ী ক্রিকেট দলের সদস্য কীর্তি বলেন, ‘স্কুলে ডিম পাওয়া যাচ্ছে না। আর বিজেপি ডিম মারছে! নিজের সুরক্ষার জন্য লাইসেন্স পিস্তল নিচ্ছি। আমারও নিজেকে আত্মরক্ষা করার অধিকার রয়েছে। আমি ভয় পাই না বিজেপি গুণ্ডাদের। দেশের জন্য ক্রিকেট খেলেছি। এই বিজেপি, আরএসএস দেশের জন্য কিছু করেছে? নেতাজীর মূর্তি ভাঙছে। তাঁর নামে থাকার রাস্তার নাম পাল্টে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামে করা হচ্ছে।’
পরে পিস্তলের লাইসেন্স প্রসঙ্গে ব্যাখা দিতে গিয়ে কীর্তি বলেন, ‘লাইসেন্স পিস্তল আমার কাছে আগে থেকেই রয়েছে। তবে, আমি পিস্তল রাখার কথা বলছি না। তবে এটা ঠিক, আমাদের ডিম মারলে আমরাও লাঠি মারব। লাঠি মারাটা আইন বিরুদ্ধ হলে ডিম মারাটাও তো আইন বিরুদ্ধই।’ তৃণমূল এমপির এই মন্তব্যের পাল্টা আক্রমণ করেছেন দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই। তিনি বলেন, ‘এতদিন উনি কোথায় ছিলেন। সেটিং করার চেষ্টা করেছিলেন, তা হয়নি। শিল্পাঞ্চলকে অশান্ত করার চেষ্টা করছেন। উনি রাস্তায় বের হলে সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ইট-পাথর মারবে।’
বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর যে কয়েকজন এমপি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রয়েছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম কীর্তি আজাদ। দিল্লিতে দলের অবস্থান তুলে ধরেছেন বর্ধমান-দুর্গাপুরের এমপি। এদিন নিজের বাসভবনে আগাগোড়া আক্রমণাত্মক ছিলেন তিনি। শিল্পাঞ্চলে বিজেপির তোলাবাজি নিয়েও সরব হন। বলেন, ‘দুর্গাপুরের কারখানায় বেপরোয়াভাবে তোলাবাজি করা হচ্ছে। ১৮টি ভিডিও আমার কাছে এসেছে। যেগুলিতে বিজেপি নেতারা তোলাবাজি করছেন বলে দেখা যাচ্ছে। ৫০টি ভিডিও হাতে আসার পর সাংবাদিক সম্মেলন করে তা প্রকাশ করব।’ তিনি বলেন, ‘কয়লা বালি লুট চলছে। ইসিএল কিছুদিন পর বন্ধ হয়ে যাবে।’
এদিন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন প্রাক্তন ক্রিকেটার। তিনি বলেন, ‘ঋতব্রতপন্থী নকল তৃণমূলরা তাঁকে ধারাবাহিক মানসিক চাপ দিচ্ছিলেন। কিছু তথ্য এসেছে। আরও তথ্য আসবে। সবকিছু সামনে আনা হবে।’ তিনি পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও সরব হন। বলেন, ‘আমি মুখ্যসচিব, ডিজিকে চিঠি লিখে কর্মীদের বাড়ি ফেরানোর দাবি জানিয়েছিলাম। একজন কর্মীকেও বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়নি।’ ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন প্রসঙ্গেও বলেন, ‘পেপার লিক হলে বিজেপির কিছু এসে যায় না। কারণ, বিজেপির ৭০ শতাংশের বেশি এমপির ছেলে মেয়েরা বিদেশে পড়ছে।’ এদিন ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল নেতা নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকেও একহাত নেন কীর্তি।তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য ইসিএলে দুনীর্তি নিয়ে ইডি, সিবিআইকে দেওয়া চিঠি ফিরিয়ে নিয়েছিলাম। ফের সেই চিঠি করব। আরও অনেক তথ্য আমার হাতে এসেছে।’
এদিন এমপির বাসভবনে গিয়ে দেখা যায়, তাঁর কোন সরকারি নিরাপত্তারক্ষী নেই। জানা গিয়েছে, তৃণমূল বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘উনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে চিঠি লিখে কেন প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন? তার উত্তর আগে দিন। পরে তোলাবাজির অভিযোগের উত্তর দেব।’