নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সর্বভারতীয় নেতৃত্বের ফতোয়া গিলতে কার্যত বাধ্য হল বঙ্গ বিজেপি। গোটা দেশজুড়ে সংখ্যালঘুদের কাছে টানতে অভিনব সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কেন্দ্রীয় শাসক দল। ঈদ উপলক্ষ্যে মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের বিশেষ উপহার বিলির নিদান এসেছিল দিল্লির তরফে। তবে বাংলায় বিজেপি নেতারা হিন্দুত্বের ডোজ আগে থেকেই বাড়িয়ে রেখেছিলেন। বিরোধী দলনেতা থেকে প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ প্রত্যেকের মুখেই মুসলমান ভোট নিয়ে অনীহা প্রকাশ পেয়েছে। সেই সূত্রে সর্বভারতীয় স্তরে ঈদের দিনে বাংলার মুসলমান ভাই-বোনেদের মধ্যে উপহার বণ্টন কর্মসূচি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ছিল। তবে নমো নমো করে হলেও কেন্দ্রীয় নির্দেশ মানতে বাধ্য হল বঙ্গ বিজেপি।
এই প্রসঙ্গে বাংলার সংখ্যালঘু মোর্চার রাজ্য সভাপতি চার্লস নন্দী বলেন, এদিন সওগত-এ-মোদি কার্যক্রম একাধিক জেলায় পালিত হয়েছে। হুগলি, বীরভূম, পূর্ব মেদিনীপুরসহ কয়েকটি জেলায় সংখ্যালঘু মোর্চার তরফে পিছিয়ে পড়া মুসলমান ভাই-বোনেদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে উপহার তুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গুড ফ্রাই ডে’তে একইভাবে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের উপহার দেওয়া হবে।
যদিও সূত্রের দাবি, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশসহ দেশের অন্যান্য প্রান্তে বড় আকারে ঈদের দিনে বিজেপির এই ‘সওগত-এ-মোদি’ সাফল্যের সঙ্গে পালিত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে সেই সংখ্যাটা অত্যন্ত নগণ্য। এর দায় অনেকেই রাজ্য নেতাদের উপর চাপাচ্ছেন। তাঁদের যুক্তি, মুসলমান ভোট চাই না। সংখ্যালঘু এলাকায় বুথ-মণ্ডল কমিটির দরকার নেই। এই ধরনের উগ্র মন্তব্যে পার্টির ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। সেই ক্ষতে প্রলেপ লাগাতে খানিক সময়
লাগবে। নিজস্ব চিত্র