নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০২২-২৩ মরশুম। আইএসএলে ২০ ম্যাচে ১টি জয়, ২টি ড্র এবং ১৭টি হার! মাত্র ৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তলানিতে শেষ করেছিল নর্থইস্ট ইউনাইটেড। আর তারাই এখন দেশের অন্যতম ধারাবাহিক ক্লাব। ২০২৪ ও ২০২৫— টানা দু’বার ডুরান্ড কাপ জিতে সাড়া ফেলে দিয়েছেন পার্থিব গোগইরা। নর্থইস্টের এমন স্বপ্নের প্রত্যাবর্তনের রহস্যটা কী? কোন জাদুকাঠির ছোঁয়ায় ধুঁকতে থাকা জন আব্রাহামের দল এখন অশ্বমেধের ঘোড়ার মতো ছুটছে? কৌতূহলী জিজ্ঞাসা ফুটবল মহলের।
উত্তরের জন্য পিছনে হাঁটতে হবে। ২০২২-২৩ মরশুমের লজ্জা কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না কর্ণধার জন আব্রাহাম। তখনই তিনি ক্লাবকে খোলনলচে বদলে ফেলার প্রতিজ্ঞা নেন। দলের দায়িত্বে আনেন স্প্যানিশ কোচ পেড্রো বেনালিকে। তিনিই নর্থইস্টের স্বপ্নের সওদাগর। ইউরোপ, জাপান, আমিরশাহি থেকে মরক্কো— দীর্ঘ ২৫ বছরের কোচিং অভিজ্ঞতা নিয়ে ভারতে পা রেখেছিলেন বেনালি। আর দায়িত্ব নিয়েই দলে ছোট ছোট পরিবর্তনে জোর দেন তিনি। নতুন প্রতিভা স্কাউটিং, প্রি-সিজন ক্যাম্প, পাসিং ফুটবল। নর্থইস্ট ম্যানেজমেন্টের এক কর্তা বলছিলেন, ‘বেনালি আসার পর নর্থইস্টের আটটি রাজ্য থেকে নতুন প্রতিভা তুলে আনতে জোর দিই আমরা। ট্রায়ালের পাশাপাশি সেখানকার স্থানীয় টুর্নামেন্টে নজর রাখে স্কাউটিং টিম।’ তাছাড়া কোচ বেনালি বেশ কিছু ভালোমানের বিদেশি ফুটবলারও নিয়ে আসেন। তাতেই ফল মেলে হাতেনাতে। ২০২৩-২৪ মরশুমে মাত্র এক পয়েন্টের জন্য আইএসএল প্লে-অফে জায়গা হয়নি নর্থইস্টের। ডুরান্ডেও সেমি-ফাইনাল খেলেছিল। পরের বছর কোর টিম ধরে রাখার পাশাপাশি আলেদাইন আজারেইকে মরক্কো থেকে আনেন বেনালি। তারপর তো নর্থইস্ট রীতিমতো বিপক্ষের ত্রাস। আইএসএল প্লে-অফে খেলার পাশাপাশি ক্লাবের ইতিহাসে প্রথমবার ডুরান্ড কাপ জয়ের স্বাদ পায় জন আব্রাহামের দল। এবারও ডুরান্ড চ্যাম্পিয়ন নর্থইস্ট। ফাইনালে ডায়মন্ডহারবার এফসি’কে চূর্ণ করার পর নর্থইস্ট কোচ বলছিলেন, ‘অনেকে বলে, ভারতের মাত্র ১০ শতাংশ মানুষ নাকি ফুটবল নিয়ে মাতামাতি করে। আরে বাবা, দেড়শো কোটির ১০ শতাংশ সংখ্যাটাও তো স্পেন, ক্রোয়েশিয়ার জনসংখ্যাকে ছাড়িয়ে যাবে!’ দলের সাফল্যের প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ‘আমাদের টিমে বিদেশি-স্বদেশীর কোনও ভেদাভেদ নেই, সবাই ফুটবলার। টিম গেমেই বাজিমাত করেছি।’ পাশাপাশি আলেদাইন আজারেইকেও কৃতিত্ব দিতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুহূর্তে ভারতে খেলা সেরা বিদেশি ফুটবলার আলেদাইন। ডুরান্ডে গোল্ডেন বল ও বুট জিতে তা আরও একবার প্রমাণ করলেন তিনি।