লন্ডন: পোষ্য বিড়াল হারিয়ে গিয়েছে। তারপর কেটেছে ১০ বছর। যন্ত্রণা বুকে নিয়ে এতগুলো দিন কাটিয়েছেন দুই বোন। কত খোঁজাখুঁজি, কত অপেক্ষা! কিন্তু কোনওভাবেই সন্ধান মেলেনি প্রিয় চার্লির। অবশেষে এক অপ্রত্যাশিত ফোন বদলে দিল দুই বোনের জীবন। ব্রিটেনের ওয়েলসের বাসিন্দা লুসি রবার্টসন ও হান্না ডেভিস জানতে পারলেন, এক দশক আগে হারিয়ে যাওয়া তাঁদের পোষ্য বিড়াল চার্লি ফিরে এসেছে!
সেদিন লুসির জন্মদিনের প্রস্তুতি চলছিল। সেই সময়ই এক পশু চিকিৎসকের ফোন আসে তাঁদের কাছে। চিকিৎসক জানান, চার্লিকে খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। খবরটি শুনে কার্যত বাক্রুদ্ধ হয়ে যান দুই বোন। কারণ, ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে নিখোঁজ হওয়ার সময় চার্লির বয়স ছিল মাত্র তিন বছর।এতদিনে সে আর বেঁচে নেই এমনটাই ধরে নিয়েছিলেন লুসি।
আসলে বাড়ির বাইরে ঘুরতেই বেশি পছন্দ করত তাঁদের আদরের চার্লি। দিনের বেশির ভাগ সময় রাস্তায় ঘুরে কাটাত সে। এমনই একদিন বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেনি চার্লি। পরিবারের সদস্যরা মাসের পর মাস ধরে খোঁজ চালিয়েছিলেন। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান মেলেনি।
কিন্তু এত দিন কোথায় ছিল চার্লি?
সঠিকভাবে সেই খোঁজ না মিললেও বিগত কয়েকদিন লুসিদের বাড়ির এলাকাতেই ছিল চার্লি। কয়েকদিন আগে স্থানীয় এক বাসিন্দা ঝোপঝাড়ের মধ্যে চার্লিকে দেখতে পান। ভেবেছিলেন রাস্তার বিড়াল। তিনিই গত কয়েক সপ্তাহ ধরে খাবার দিচ্ছিলেন চার্লিকে। পরে তাকে পশু চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপরই চার্লির শরীরে থাকা একটি ছোট কার্ড বা মাইক্রোচিপের খোঁজ মেলে। সেখানেই হান্নার নাম্বার লেখা ছিল। যা দেখে যোগাযোগ করেন ওই চিকিৎসক।
চার্লিকে ফিরে পাওয়ার ঘটনায় বিস্মিত হয়েছিলেন ওই পশু চিকিৎসক। বিড়ালটি যে টানা ১০ বছর ধরে নিখোঁজ ছিল, তা জানতে পেরে তিনিও অবাক হয়ে যান। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, এত বছর বাড়ির বাইরে কাটিয়েও চার্লির শারীরিক অবস্থা মোটের উপর ভাল ছিল।
তবে এই দীর্ঘ এক দশকে চার্লি কোথায় ছিল, কীভাবে দিন কাটিয়েছে, কী খেয়ে বেঁচে ছিল—সেই প্রশ্নগুলির উত্তর এখনও অজানা। প্রিয় পোষ্যকে ফিরে পেয়ে দুই বোনের কাছে এখন সেই অজানা অধ্যায়ের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে পুনর্মিলনের আনন্দ।



