নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ভারতের রপ্তানি বাণিজ্য এবং পেট্রল ডিজেলের বাধাহীন আমদানির জন্য অপ্রত্যাশিত সুসংবাদ এল এমন একজনের থেকে, যিনি নিজেই ছিলেন অনিশ্চয়তা সৃষ্টির কারণ। তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর সরকার সংসদে বিল পাশ করিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল প্রধানত ভারত ও চীনকে বাণিজ্যগতভাবে কোণঠাসা করা হবে। কারণ, এই দুই রাষ্ট্র আমেরিকার ‘নির্দেশ’অমান্য করে লাগাতার রাশিয়া থেকে অশোধিত তেল ক্রয় করছে। সমস্তরকম বাণিজ্যিক লেনদেন বজায় রাখছে। গ্রাহামস আইন সংসদে অনুমোদন করিয়ে মার্কিন সরকার ভারত ও চীনের মতো মস্কো-বন্ধু রাষ্ট্রগুলির রপ্তানি বাণিজ্যের উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের অধিকার স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দিয়েছে। অর্থাৎ রাশিয়া থেকে তেল ক্রয় বন্ধ করা না হলে এই রাষ্ট্রগুলির পাঠানো পণ্যের উপর আমেরিকা প্রয়োজনে ১০০ শতাংশ শুল্ক বলবৎ করতে পারে। স্বাভাবিকভাবে সেই শুল্ক খাঁড়া মাথার উপর থাকায় ভারতের রপ্তানি ও জ্বালানি বাণিজ্যে রীতিমতো অনিশ্চয়তার কালো মেঘ। হঠাৎ শনিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই শুল্ক আরোপের গ্রাহাম আইনকে স্থগিত করে দিলেন। যে ট্রাম্প কথায় কথায় শুল্ক সন্ত্রাস চালিয়ে বিশ্ববাণিজ্যকে সম্পূর্ণ অনিশ্চিত এক ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিয়েছেন, সেই তিনি হঠাৎ এই উলটো সুর গাইছেন কেন? কারণ স্বার্থ। প্রথমত আসন্ন মার্কিন অন্তর্বর্তী নির্বাচন। আর তার প্রাক্কালে আমেরিকায় অর্থনীতি যথেষ্ট কোণঠাসা। ক্রমবর্ধমান জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম। মূল্যবূদ্ধির জেরে আমেরিকার আমজনতা নাজেহাল। সেই রাগ ভোটে আছড়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কায় ভুগছে রিপাবলিকান পার্টি। আর তাই এতকালের ঘোষিত প্রতিপক্ষ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সম্প্রতি টেলিফোনে কথা বলে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, এই মাস থেকেআমেরিকাকে ডিজেল জোগান দিতে চলেছে রাশিয়া। স্বাভাবিকভাবে সেই সরবরাহ পেলে আমেরিকার ডিজেল সঙ্কট স্বাভাবিক হবে। তখনই প্রশ্ন উঠছিল, পুতিন হঠাৎ রাজি হবেন কেন? নিশ্চয়ই বিনিময়ে তাঁরও কিছু পাওয়ার কথা ট্রাম্পের থেকে। শনিবার ট্রাম্প স্পষ্ট করলেন, সেই বিনিময় বাণিজ্য। তিনি রাশিয়ার উপর থেকে তাবৎ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক মকুব করলেন। কিন্তু মার্কিন সরকারের বিজ্ঞপ্তি এবং ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, এই ব্যবস্থা সাময়িক। বোঝাই যাচ্ছে আমেরিকার অন্তর্বর্তী নির্বাচন পর্যন্ত। ট্রাম্প এবং পুতিনের মধ্যে যে সমীকরণ ও রসায়নই কাজ করুক শনিবার ট্রাম্পের এই চমকপ্রদ ঘোষণায় সবথেকে স্বস্তি ভারতের। কারণ, যদি গ্রাহাম আইন অনুযায়ী মার্কিন সরকার ওই ১০০ শতাংশ শুল্ক বলবৎ করে ভারতের রপ্তানি বাণিজ্যের উপর, তাহলে অর্থনীতি প্রায় খাদের কিনারায় যাবে। কারণ রপ্তানি বাণিজ্যে ভারতের সর্ববৃহৎ অংশীদার আমেরিকা। ভারত যত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে, তার ২০ শতাংশ আমেরিকায়। আমেরিকায় বার্ষিক পণ্য রপ্তানির পরিমাণ ৯৩০০ কোটি ডলার। আর একমাত্র আমেরিকার সঙ্গে ভারত সুবিধাজনক অবস্থায়। অর্থাৎ বাণিজ্য ঘাটতি আমেরিকার। সুতরাং ট্রাম্পের শুল্ক রদের জেরে ভারতের মাথার উপর থেকে চলে যাবে অনিশ্চিত রপ্তানি বাণিজ্য। আবার একইসঙ্গে আরও সুসংবাদ হল আমেরিকার সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি সম্ভবত দ্রুত সম্পন্ন হবে এবার। আগামী মাসে অসিয়ানের সম্মেলন হবে ম্যানিলায়। বিশেষ আমন্ত্রিত হিসাবে থাকবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যাবেন নরেন্দ্র মোদিও। সেখানেই কি দুই প্রধানের বৈঠকে বাণিজ্য চুক্তির শুভসূচনা? ডালটনে র্যালির পর ফিরছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাস্প। ছবি: পিটিআই



