নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: খানাখন্দে ভরে গিয়েছে বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে। সেই সঙ্গে রাস্তা সম্প্রসারণ ও কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সংযুক্তিকরণের কাজ চলতে থাকায় পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে উঠেছে। যানজট হয়ে উঠেথে নিত্যদিনের ঘটনা। ছোটোখাটো দুর্ঘটনা লেগেই আছে। চলতি বর্ষায় জল জমছে রাস্তার গর্তে। নোংরা জলে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন বাইক আরোহীরা। এই অবস্থায় ট্রাফিক পুলিসের তরফে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। যদিও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ রাস্তা দেখভালের দায়িত্বে থাকা এজেন্সির দিকে পাল্টা আঙুল তুলেছে। সমস্যা সমাধানের দাবিতে সরব হয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা এয়ারপোর্টে যাতায়াতের জন্য বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে ধরতে বাধ্য হন। এছাড়া, সল্টলেক সহ উত্তর শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় যাওয়ার জন্য প্রতিদিন হাজার হাজার ছোট-বড় গাড়ি, ট্রাক, লরি, বাস ও বাইক আরোহী এই রাস্তাই ধরেন। দেখা গিয়েছে, দক্ষিণেশ্বরের দিক থেকে এয়ারপোর্টগামী লেনের অবস্থা সব থেকে খারাপ। বরানগর মেট্রো স্টেশন লাগোয়া লেন খানাখন্দে ভরে গিয়েছে। একইভাবে প্রমোদনগর থেকে শুরু করে ঢালাই কারখানা পার করে দুর্গানগর সহ পুরো লেন খানাখন্দে ভরে গিয়েছে। যেখানে সেখানে বড় বড় গর্ত। টানা বৃষ্টির জেরে গর্তগুলি কার্যত চৌবাচ্চার রূপ নিয়েছে। জল ভর্তি ছোট-বড় গর্তে বড় গাড়ির চাকা পড়লে নোংরা জল চারদিকে ছিটকে আসছে। সেই জলে জামাকাপড় নষ্ট হচ্ছে বাইক আরোহীদের। শুধু তাই নয়, গর্তে চাকা পড়ায় মাঝেমধ্যে মালবোজাই বড় লরি খারাপ হয়ে হচ্ছে। সেই গাড়ি মাঝরাস্তায় দাঁড়িয়ে যাওয়ায় যানজট তীব্র হচ্ছে। কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে রাস্তার যে অংশে যুক্ত হচ্ছে, সেখানে তৈরি হচ্ছে বড় ফ্লাইওভার। তাছাড়া রাস্তা সম্প্রসারণের কাজও চলছে। নিত্যযাত্রীদের অভিযোগ, ওই কাজ অত্যন্ত ধীর গতিতে এগচ্ছে। কিছু কিছু জায়গায় রাস্তা বিপজ্জনক ভাবে কাটা রয়েছে। সেখানে রাতের বেলা দুর্ঘটনা ঘটছে। এয়ারপোর্টের দিক থেকে দক্ষিণেশ্বরগামী লেনের সতীন সেন কলোনি লাগোয়া এলাকায় রেলওয়ে আন্ডারপাস আছে। খানাখন্দের কারণে গাড়ি চলাচলে তীব্র সমস্যা হচ্ছিল। সেখানে আংশিক মেরামতির কাজ হওয়ায় এখন পরিস্থিতি কিছুটা ভালো। আন্ডারপাস পেরলেই গাড়ি ফের পড়ছে খানাখন্দে।
বারাকপুর কমিশনারেটের ডিসি (হেডকোয়ার্টার ও ট্রাফিক) অতুল বিশ্বানাথন বলেন, ‘সমস্যা আামাদেরও নজরে এসেছে। মাসিক বৈঠকে বিষয়টি জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে।’ নিজস্ব চিত্র