নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফাঁকা জমি পড়েছিল। নজর পড়েছিল দখলদারদের। সেই জমির চেহারা আমূল বদলে গিয়েছে। তৈরি হয়েছে মুক্তমঞ্চ, সাজানো বাগান, বাচ্চাদের খেলার জায়গা। আর নীচে পানীয় জলের বুস্টার পাম্পিং স্টেশন ও ভূগর্ভস্থ জলাধার। কয়েক দিন আগে থেকেই সাউথ শিয়ালদহ রোডে চালু হওয়া এই জলাধার ও বুস্টার পাম্পিং স্টেশন বিস্তীর্ণ অঞ্চলের পানীয় জলের চাহিদা মেটাচ্ছে। কমেছে নাগরিক দুর্ভোগ। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বেলেঘাটার এই অঞ্চলে প্রথম পরিস্রুত পানীয় জলের সরবরাহ শুরু হয়েছে।
বেলেঘাটা অঞ্চলের চুনাপট্টিতে খালধারে বহু বছর ধরে পড়েছিল ওই জমি। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বহু বছর আগে সেখানে খাল বা জলাভূমি ছিল, যা পরে বুজিয়ে ফেলা হয়। বছরের পর বছর জায়গাটি কার্যত দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এলাকাবাসীর স্বার্থে সেই জমি খালি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তারপর সেখানেই তৈরি হয়েছে ওই ২ মিলিয়ন গ্যালন জলধারণ ক্ষমতার জলাধার ও বুস্টার পাম্পিং স্টেশন। এলাকার সৌন্দর্যায়ন করতে জলাধারের উপরে তৈরি হয়েছে মুক্তমঞ্চ। সব মিলিয়ে গোটা অঞ্চলের চেহারাই পাল্টে গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা রত্না হালদারের কথায়, ‘এখানে পানীয় জলের প্রবল সমস্যা ছিল। বিশেষ করে গরমের সময় জলের চাপ কম থাকায় পর্যাপ্ত পানীয় জল পাওয়া যেত না। রাস্তার ধারে কলপাড়ে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে জল তুলতে হত। এবার সেই সমস্যা মিটবে।’
পুরসভা জানাচ্ছে, এই এলাকায় পরিস্রুত পানীয় জলের সরবরাহ সর্বত্র ছিল না। কিছু কিছু অঞ্চলে গভীর নলকূপের জল সরবরাহ করা হত। এবার সব জায়গায় পরিস্রুত জল মিলবে। স্থানীয় কাউন্সিলার তথা কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ জীবন সাহা বলেন, ‘দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এতদিন পর্যন্ত এখানে পরিস্রুত পানীয় জল পেতেন না বাসিন্দারা। প্রচণ্ড সমস্যা ছিল জলের। বহু বছর ধরে এটা প্রয়োজন ছিল। গোটা ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড উপকৃত হবে। ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে যে ছোটো ক্যাপসুল বুস্টার পাম্পিং স্টেশন আছে, সেখানেও এখান থেকেই জল সরবরাহ হবে। ৩৬, ৪৬, ৫৮ নম্বর ওয়ার্ড আংশিকভাবে উপকৃত হবে।’ -নিজস্ব চিত্র