Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুজোর আগেই কর্ণাটক ও ঝাড়খণ্ডের কারবারিরা জাল নোট পাচারে নেমেছে

জালনোট পাচারে নেমেছে কর্ণাটক ও ঝাড়খণ্ডের কারবারিরা। বাংলা হয়েই সারা দেশে ছড়াচ্ছে নকল ৫০০ টাকার নোট। চাপাই নবাবগঞ্জ থেকে মালদহের কালিয়াচক হয়ে ফরাক্কায় ঢুকছে জালনোট।

পুজোর আগেই কর্ণাটক ও ঝাড়খণ্ডের কারবারিরা জাল নোট পাচারে নেমেছে
  • ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অভিষেক পাল, বহরমপুর: জালনোট পাচারে নেমেছে কর্ণাটক ও ঝাড়খণ্ডের কারবারিরা। বাংলা হয়েই সারা দেশে ছড়াচ্ছে নকল ৫০০ টাকার নোট। চাপাই নবাবগঞ্জ থেকে মালদহের কালিয়াচক হয়ে ফরাক্কায় ঢুকছে জালনোট। তারপর হাত বদলে ক্যারিয়ারের মাধ্যমে পৌঁছে যাচ্ছে ভিনরাজ্যে। গত সোমবার রাতে রাজ্য পুলিসের স্পেশাল টাস্কফোর্স ও ফরাক্কা থানার পুলিস অভিযান চালিয়ে প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকার জালনোট সহ দুই কারবারিকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের নাম মহম্মদ জাফর ও খালিদ শেখ। জাফরের বাড়ি কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে। খালিদ ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জের বাসিন্দা। তাদের হেফাজতে নিয়ে ওই দু’জনের মধ্যে যোগসূত্র খতিয়ে দেখে পুলিস। ফরাক্কা থানায় একটি মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। 

Advertisement

ফরাক্কার এসডিপিও শেখ সামসুদ্দিন বলেন, উদ্ধার হওয়া নোটগুলি সব ৫০০টাকার। ধৃতদের কাছ থেকে মোট ৪লক্ষ ৯৭ হাজার ৫০০টাকার জালনোট উদ্ধার হয়েছে। ঝাড়খণ্ডের যুবক জালনোট নিয়ে এসেছিল। সেগুলি বেঙ্গালুরুর যুবকের হাতে তুলে দেওয়ার আগেই আমরা দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছি। নোটগুলি এতটাই নিখুঁত যে সেগুলি জাল নাকি আসল তা বোঝা কঠিন। এই কারবারে আর কেউ জড়িত আছে কি না, ধৃতদের জেরা করে তা জানার চেষ্টা চলছে। 
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মালদহের বাংলাদেশ-সীমান্তবর্তী বৈষ্ণবনগর এলাকা থেকে ধৃতরা জালনোটগুলি সংগ্রহ করেছিল। তারপর সেগুলি বেঙ্গালুরু নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। নোটগুলি হাতবদলের আগেই এসটিএফ ও পুলিস তাদের পাকড়াও করে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে, সোমবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ নিউ ফরাক্কা বাসস্ট্যান্ডে অভিযান চালান পুলিস ও এসটিএফ আধিকারিকরা। একটি অটো থামিয়ে যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেখানে দুই যাত্রীর কথাবার্তায় অসঙ্গতি লক্ষ্য করে পুলিস। তল্লাশি শুরু করলে তাদের ব্যাগ থেকে ৯৯৫টি জাল পাঁচশো টাকার নোট পাওয়া যায়। জালনোট নিয়ে যাওয়ার সময় বাস এবং ট্রেনে তল্লাশি হওয়ায় আগে বেশ কয়েকবার পাচারকারীদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। তাই এবার পুলিসের চোখে ধুলো দিতে অটোয় চেপেছিল কারবারিরা। তারা ভেবেছিল, অটোয় চেপে গেলে পুলিস সন্দেহ করবে না। যদিও তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ করেছে পুলিস। 
জানা গিয়েছে, মূলত বাংলাদেশের চাঁপাই নবাবগঞ্জ থেকে জালনোট আসে। সেগুলি মালদহের বৈষ্ণবনগর ঘাট হয়ে মুর্শিদাবাদে ঢোকে। ওইদিনও একই কায়দায় জালনোট এই জেলায় ঢুকেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিস। এক তদন্তকারী অফিসার বলেন, কারবারিরা একাধিক বড় বাজারে মোটা টাকার লেনদেনের সময় আসল নোটের মাঝে সুকৌশলে জাল টাকা ঢুকিয়ে দেয়। এই জালনোটগুলি অবিকল আসল টাকার মতোই দেখতে। হাতে নিয়েও ফারাক বোঝা যায় না। এর আগেও জালনোট পাচার চক্রে বাংলা, বিহার ও ঝাড়খণ্ডের একাধিক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। তবে কর্ণাটকের যুবকের জড়িত থাকার বিষয়টি ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের। ঝাড়খণ্ডের যুবকের সঙ্গেই বা তার কীভাবে পরিচয় হল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিস। পাচারের কারবারের সূত্রেই তাদের পরিচয় বলে প্রাথমিকভাবে পুলিসের অনুমান।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ