Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সবুজ হোক বা কমলা, ভোটবাজারে শেষহাসি হাসতে চলেছে রসগোল্লা! পিছনে ফেলেছে সন্দেশকে

বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল জানা যাবে পরের সপ্তাহে। তবে ভোটের হাওয়া ইতিমধ্যেই বইতে শুরু করেছে কলকাতা ও শহরতলির মিষ্টির দোকানগুলিতে।

সবুজ হোক বা কমলা, ভোটবাজারে শেষহাসি হাসতে চলেছে রসগোল্লা! পিছনে ফেলেছে সন্দেশকে
  • ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল জানা যাবে পরের সপ্তাহে। তবে ভোটের হাওয়া ইতিমধ্যেই বইতে শুরু করেছে কলকাতা ও শহরতলির মিষ্টির দোকানগুলিতে। কোন দল জিতবে, পিছিয়ে যাবে কারা, তার উপর নির্ভর করবে রসগোল্লা-সন্দেশের রং। মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীরা বলছেন, ফলাফল যাই-ই হোক, তাঁরা এখন থেকেই তৈরি থাকছেন ভিয়েনঘরে। কিছু দোকানে ইতিমধ্যেই হরেক প্রতীকের সন্দেশ বিক্রি হতে শুরু করেছে। তাতে সাড়াও মিলছে ভালো। ব্যবসায়ীদের অভিজ্ঞতা বলছে, জয়ের আনন্দে সন্দেশকে পিছিয়ে দেবে রসগোল্লা। লড়াই হবে কাঁচা আমের গন্ধে ভরা সবুজ রসগোল্লার সঙ্গে বাঙালির পছন্দের কমলাভোগের।  

Advertisement

আলাদা করে দলীয় প্রতীকের ছাপ দেওয়া মিষ্টি তৈরি করে না ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন প্রতিষ্ঠান কে সি দাশ প্রাইভেট লিমিটেড। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতিমধ্যেই এখানকার মিষ্টিতে মজেছেন। সম্প্রতি কলকাতায় আসার পর তাঁর জন্য রাজভবন থেকে অর্ডার করা হয় কেশর রাজভোগ ও আমভরা সন্দেশ। এখানকার কর্ণধার ধীমান দাশের কথায়, আমরা কোনো প্রতীক দেওয়া সন্দেশ তৈরি না করলেও, ভোটের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে দোকানে অর্ডার আসে। দলীয় রঙের উপর ভিত্তি করে মূলত রসগোল্লার চাহিদাই বেশি থাকে।
রসগোল্লার চাহিদাই যে বেশি, তা স্বীকার করেছেন দেশপ্রিয় সুইটসের কর্তা সমীর ঘোষ। তাঁর কথায়, যেদিন ভোটের ফল বেরোয় বা সরকার কোন দল গড়বে, তার ইঙ্গিত যখন থেকে মিলতে থাকে, তখন থেকেই আমাদের সাতটি শোরুমেই অসম্ভব চাপ আসে দ্রুত মিষ্টি সরবরাহের জন্য। তার জন্য আমরা আগে থেকেই প্রস্তুত থাকি। এবারও তার অন্যথা হবে না। সবুজ ও কমলা রসগোল্লার জন্য সবরকমের ব্যবস্থা রাখছেন তাঁরা। 
প্রাচীন মিষ্টান্ন প্রতিষ্ঠান সতীশ ময়রায় ইতিমধ্যেই সুপারহিট ‘খেলা হবে’ সন্দেশ। দাম কুড়ি টাকা। এখানকার কর্ণধার অরূপকুমার দাসের কথায়, এই সন্দেশটিতে কিন্তু কোনো দলীয় গন্ধ নেই। তাই তা সর্বজনীন। কয়েকদিন ধরে দারুণ বিক্রি। তবে ভোটের ফলাফলের দিন সকাল ১০টা বা ১১টার পর থেকেই যেদিকে রাজনৈতিক হাওয়া বইতে থাকে, ভিয়েনঘরে সেইমতো তৈরি হতে থাকে রসগোল্লা। অরূপবাবু জানান, তাঁরা সাদা রসগোল্লাই মূলত তৈরি রাখেন হাঁড়ি হাঁড়ি। চাহিদা অনুযায়ী কয়েকমিনিটের মধ্যে বদলে দেওয়া যায় তার রং ও গন্ধ। কাঁচাআমের সবুজ গন্ধ বা কমলালেবুর রং ও গন্ধ মেশানো হয় ফুড ফ্যাসাই বা খাদ্যসুরক্ষা সংক্রান্ত নিয়ম মেনে, ভেষজ পদ্ধতিতে। বর্তমানে এখানে যে বিজেপি ও তৃণমূলের প্রতীকের সন্দেশ বিক্রি হচ্ছে, তার চাহিদা সমান সমান, স্পষ্ট কথা অরূপবাবুর। 
গত একসপ্তাহ ধরেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতীক চিহ্নের মিষ্টি বিক্রি চলছে হাওড়ার ব্যাতাই মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে। দাম ৮০ টাকা। সংস্থার কর্ণধার সৈকত পালের কথায়, আমরা আমাদের তিনটে আউটলেট থেকেই তৃণমূলের প্রতীকের সন্দেশে সাড়া পেয়েছি সবচেয়ে বেশি। হাওড়া ময়দান এলাকার শোরুমটিতে বিজেপির পদ্ম প্রতীকের সন্দেশের কাটতি বেশ ভালো। ইতিমধ্যেই লাড্ডুর জন্য আগাম বরাত এসে গিয়েছে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে, জানিয়েছেন সৈকতবাবু। রঙিন রসগোল্লা যে ফলাফলের দিনে বাড়তি নজর কাড়বে, তা নিয়ে আশাবাদী তিনিও। চন্দননগরের সূর্য মোদকের খ্যাতি জলভরা সন্দেশের জন্য। এই সংস্থা কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য আলাদা করে মিষ্টি না তৈরি করলেও, ভোটের বাজার থেকে তারা মুখ ফিরিয়ে নেই। সংস্থার কর্ণধার শৈবাল মোদকের কথায়, ভোটের আগে বাইরে থেকে প্রচুর মানুষ আসেন। সেই তালিকায় যেমন ভোটকর্মী বা অফিসাররা আছেন, তেমনই আছেন পুলিশ ও জওয়ানরা। তাঁরা বিগত কয়েকদিন ধরেই জলভরা কিনছেন আমাদের থেকে। বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীন এরই মধ্যে একদিন দোকানে এসেছিলেন একঝাঁক দলীয় কর্মী ও নেতাদের নিয়ে। জলভরার সঙ্গেই তাঁরা ছানার পায়েস, ক্রিমের মিষ্টি খেয়েছেন ও কিনেছেন। এমনকি, ভোটপর্ব মিটে গেলেও বাইরের অতিথিরা আমাদের দোকান থেকে মিষ্টি কিনে বাড়ির পথে পা বাড়ান। ভোটপর্বে এটুকুই প্রাপ্তি তাঁর।

সম্পর্কিত সংবাদ