নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সিঁদুরে মেঘ দেখে সাবধানী কলেজ স্ট্রিট। বইপাড়ার বিক্রেতারা আগে বলেছিলেন, ইদের দিন তাঁদের মৌখিকভাবে অস্থায়ী দোকান সরিয়ে নেওয়ার কথা বলে যাওয়া হয়েছিল। সে কথা প্রচার হওয়ার পর প্রতিবাদ শুরু হয়। যদিও ‘উচ্ছেদ’ সংক্রান্ত কোনও লিখিত নোটিস হকাররা পাননি। তবুও কলেজ স্ট্রিটের চেনা ছবি খানিকটা হলেও বদলে গিয়েছে। ফুটপাত আচমকা প্রশস্ত হয়ে গিয়েছে। কফি হাউজের সামনের রাস্তা চওড়া হয়েছে অনেকটা। দোকানের সামনে বইয়ের স্তূপ আর নেই। এর ফলে পথচারীদের হাঁটাচলায় বাড়তি সুবিধা হচ্ছে। অনেকে বলছেন, ‘কলেজ স্ট্রিট কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগছে!’ আদপে কলেজ স্ট্রিট কিন্তু ফাঁকা নয়। সবক’টি দোকানই রয়েছে। কিন্তু দোকানগুলি নিয়ম মেনে কেনাবেচা করছে। কফি হাউজের সামনের এক বই বিক্রেতা উত্পল সাহা বললেন, ‘শুনেছিলাম যে, একদল লোক এসে দোকান ওঠানোর কথা বলে গিয়েছিলেন। কিন্তু তারপর তো আর নতুন করে কিছু হয়নি।’ কিন্তু তবুও তাঁরা সাবধানী। কিরকম? উত্পল বলেন, ‘আমরা রাস্তায় রেখে দেওয়া বইপত্রগুলো যতটা সরানো যায় ততটা সরিয়ে নিয়েছি। মানুষের যেন কোনো অসুবিধা না হয় সেই দিকটা দেখেই আমরা ফাঁকা করে দিয়েছি।’ তবে অন্য এক বিক্রেতার বক্তব্য, ‘গত সপ্তাহে বইপত্র যতখানি সরানো হয়েছিল এখন অতটা নেই। অনেকেই ধীরে ধীরে আবার আগের মতো রাখছেন।’ রাস্তায় বসে থাকা বই বিক্রেতারা বই সরিয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু কর্পোরেশনের অনুমতি নিয়ে ফুটপাতের একপাশে বসা বই বিক্রেতারা সাবধানী হয়েছেন। অনেকের ফুটপাতের একপাশে দোকান। কিন্তু তাঁরা অন্য পাশে বই রেখে দিতেন। আবার দোকানের সামনে টুলের উপরও রাখা থাকত। বর্তমানে কলেজ স্ট্রিটে সেই দৃশ্য চোখে পড়বে না।



