রাজু চক্রবর্তী, কলকাতা: ভারতীয় রেলের গৌরবময় ইতিহাস স্মরণের শুভ মুহূর্ত প্রশাসনিক জটিলতায় প্রায় আড়াই মাস পিছিয়ে গেল। গত ৩ ফেব্রুয়ারি ছিল সেই ঐতিহাসিক দিন। ১৯২৫ সালের ওই দিনে ভারতীয় রেলে প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছিল। চলতি বছরের ওই দিন ইলেকট্রিন ট্রেন পরিষেবার ১০০ বছর পূরণ করে ভারতীয় রেল। দিনটি কেন্দ্রীয়ভাবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত বহু আগে হলেও সেই অনুষ্ঠান বাতিল হয়। পরবর্তী সময়ে রেল বোর্ড ৭ ও ৮ মার্চ দিল্লির ভারত মণ্ডপমে এই সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আলোচনা সভা ও প্রদর্শনী আয়োজন করে। পাশাপাশি নিয়েছিল ১০০ বছর আগের রুটে (বম্বে ভিক্টোরিয়া টার্মিনাস-কুর্লা হারবার) বিশেষ ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা। এখন তাও বাতিল করল কেন্দ্রীয় সরকার। সম্প্রতি ভারতীয় ভারতীয় রেলের ১৭টি জোনের জেনারেল ম্যানেজারদের কাছে নয়া লিখিত নির্দেশ এসেছে। শতবর্ষের এই কর্মসূচি আগামী ১৭ ও ১৮ এপ্রিল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল বোর্ড। জরুরি প্রশাসনিক কাজের জন্য এই অনুষ্ঠান পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে ওই চিঠিতে ব্যাখ্যা দিয়েছে রেল।
Advertisement
স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, ঐতিহাসিক মুহূর্ত উদযাপনের অনুষ্ঠান কেন বারবার বাতিল হচ্ছে? ওই দিনেই অর্থাৎ ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তা না করার, যুক্তিযুক্ত জবাব মিলছে না। এ প্রসঙ্গে দিল্লির এক রেল কর্তার দাবি, দেশের সমস্ত জোন থেকে অফিসারদের এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে হবে। টানা দু’দিনের অনুষ্ঠানের জন্য কয়েক কোটি টাকা খরচও হবে। যদিও আক্ষেপের সুরে তিনি আরও বলেন, ১০০ বছর কেটে গেলেও গোটা ভারতীয় রেলে বৈদ্যুতিকরণের কাজ এখনও শেষ হয়নি। ১৭ ও ১৮ এপ্রিল মূল অনুষ্ঠান দিল্লিতে হলেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জোন কিংবা ডিভিশনেও তা পালন করতে হবে। যদিও পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজারের উপস্থিতিতে গত ৩ ফেব্রুয়ারি শিয়ালদহে একটি ট্রেনকে বিশেষভাবে সাজিয়েগুছিয়ে চালানো হয়েছিল। ইলেকট্রিক ট্রেনের ১০০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান পূর্ব রেলের আগেই পালন করেছে। তবে কি তা ফের দ্বিতীয়বারের জন্য উদযাপন করা হবে? মানুষের করের টাকায় এই অপ্রয়োজনীয় খরচ নিয়ে রেলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।



