Bartaman Logo
৩১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফরাক্কার ডিয়ার ফরেস্ট পরিদর্শন বিডিও, পঞ্চায়েতের সভাপতির

গঙ্গার দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশি। ফরাক্কা ডিয়ার ফরেস্ট আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এতদিন রাজ্য পর্যটন মানচিত্রে সেভাবে নজর কাড়তে পারেনি মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা

ফরাক্কার ডিয়ার ফরেস্ট পরিদর্শন বিডিও, পঞ্চায়েতের সভাপতির
  • ৩১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: গঙ্গার দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশি। ফরাক্কা ডিয়ার ফরেস্ট আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এতদিন রাজ্য পর্যটন মানচিত্রে সেভাবে নজর কাড়তে পারেনি মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা। তবে এবার সেই ছবি বদলাতে একগুচ্ছ সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ গ্রহণ করল ফরাক্কা পঞ্চায়েত সমিতি। পর্যটন কেন্দ্রগুলির উন্নয়ন ঘটিয়ে স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থান তৈরি এবং অর্থনৈতিক গতি ফেরানোই এখন মূল লক্ষ্য। বুধবার বিকেলে ফরাক্কার ডিয়ার ফরেস্ট এলাকা ঘুরে দেখেন ফরাক্কার বিডিও সুজয় ব্যাপারী, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি উম্মে তুমিমা সহ এলাকার অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরা। পরিদর্শন শেষে সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রতিনিধিরা। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে শীঘ্রই পর্যটন প্রকল্পের মূল কাজ শুরু হবে।

Advertisement

এ প্রসঙ্গে ফারাক্কার বিডিও সুজয় ব্যাপারী বলেন, এখানে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক ডিয়ার ফরেস্ট এলাকাটিকে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি ঘাটে ফেরি সার্ভিস ও হাউসবোটের ব্যবস্থা করা হবে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
জানা গিয়েছে, প্রায় তিন কিলোমিটার চওড়া গঙ্গার বুকে পর্যটকদের জন্য ভেসেল ও বিলাসবহুল হাউসবোট চালানো হবে। গঙ্গাবিহারের পাশাপাশি নৌকায় রাত্রিযাপন, প্রাতঃরাশ ও সুস্বাদু খাবারের বন্দোবস্তও থাকবে। অন্যদিকে, গঙ্গাপাড়ের ঐতিহাসিক ডিয়ার ফরেস্ট এলাকাটি, যা একসময় হরিণের সমাগমে মুখরিত থাকত, তাকেও নতুন রূপে সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অবহেলার শিকার হওয়া এই বনাঞ্চলে আধুনিক কটেজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দেশ-বিদেশের পর্যটকরা বনাঞ্চলের মাঝে রাত্রিযাপনের এক অনন্য অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারেন। ফরাক্কা বাগবাদড়া বনাঞ্চল থাকলেও ডিয়ার ফরেস্ট পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। তবে সেখানে আগে বহু হরিণ ঘুরে বেরাত। তা দেখতেই বহু পর্যটক ছুটে আসতেন। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবের দিনদিন হরিণের সংখ্যা কমতে থাকে। বর্তমানে সেখানে হাতে গোনা কয়েকটি হরিণের দেখা মেলে। সেটিকে আবারও সাজিয়ে তোলা হলে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠবে বলে স্থানীয়দের অভিমত।
একই সুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি উম্মে তুমিমার গলায়। তিনি বলেন, পর্যটকদের টানতে সবরকম পরিকাঠামোগত উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। পঞ্চায়েত সমিতির এই রূপদর্শী উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরকারি রাজস্ব বাড়ার পাশাপাশি এলাকার সাধারণ মানুষের বিনোদনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। সব মিলিয়ে, ফারাক্কার নতুন এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে এখন পর্যটন মানচিত্রে স্থান পাওয়ার বুকভরা আশা বাঁধছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ