নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ৮২ বছরের এক বৃদ্ধা বড়সড় আর্থিক প্রতারণার শিকার। কোনও কুখ্যাত সাইবার অপরাধী নয়, এই প্রতারণায় অভিযুক্ত খোদ একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ডেপুটি ম্যানেজার। গ্রাহকের সই জাল করে ১৭ লক্ষ টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগে মঙ্গলবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। জানা গিয়েছে, ধৃত সুমনকুমার সিং একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের যাদবপুর শাখার ডেপুটি ম্যানেজার। তদন্তে উঠে এসেছে, ওই টাকা পরিবারের একাধিক সদস্যের অ্যাকাউন্টে তিনি সরিয়ে ফেলেছিলেন।
Advertisement
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, যাদবপুর থানা এলাকার বাসিন্দা সন্তরণী ঘোষ ও তাঁর স্বামীর একটি জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট ছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখায়। স্বামীর মৃত্যুর পর সেই অ্যাকাউন্টটি সম্পূর্ণ নিজের নামে করে নেন বৃদ্ধা। ওই অ্যাকাউন্টে ১৭ লক্ষ টাকা ছিল। বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি দীর্ঘদিন ব্যাঙ্কে না যাওয়ায় পাসবুক আপডেট হয়নি। অ্যাকাউন্টে কোনও লেনদেন ছিল না গত তিন-চার বছর ধরে। অ্যাকাউন্টটির কেওয়াইসি-ও করানো হয়নি। মঙ্গলবার সন্তরণীদেবী তাঁর নাতিকে পাসবুক আপডেট করিয়ে আনতে বলেন। তা করতে গিয়েই জানা যায়, অ্যাকাউন্টে থাকা ১৭ লক্ষ টাকা উধাও। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়, সাইবার জালিয়াতরা টাকা তুলে নিয়েছে। তখন সন্তরণীদেবী যাদবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিস জালিয়াতি, প্রতারণা সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে।
প্রথমেই পুলিস ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ওই অ্যাকাউন্টের লেনদেনের নথি চেয়ে পাঠায়। সেখানে তদন্তকারীরা দেখেন, টাকা নির্দিষ্ট তিন-চারটি অ্যাকাউন্টে গিয়েছে। সেগুলির ‘ডিটেইলস’ ঘেঁটে দেখা যায়, সুমনকুমার সিং নামে এক ব্যক্তির জয়েন্ট অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে। তিনিই ওই ব্যাঙ্কের ডেপুটি ম্যানেজার! তিনি কীভাবে গ্রাহকের টাকা নিজের জয়েন্ট অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করলেন, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। সুমনকে দীর্ঘক্ষণ জেরা করে পুলিস। টানা জেরায় শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়েন অভিযুক্ত। তিনি ওই টাকা সজ্ঞানে স্থানান্তর করেছেন বলে স্বীকার করে নেন। তদন্তকারীদের তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন অ্যাকাউন্টে লেনদেন না হওয়ায় তিনি ভেবেছিলেন গ্রাহক মারা গিয়েছেন। লোভ সামলাতে পারেননি। টাকা তোলার ফর্ম পূরণের পর বৃদ্ধার সই নকল করে তা জমা দেন নিজের শাখাতেই। ওই পরিমাণ টাকা তিন-চারটি অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফারের আবেদন করেন। ডেপুটি ম্যানেজার হওয়ায় ব্যাঙ্কের কর্মীরা সন্দেহের কোনও অবকাশ রাখেননি। টাকা ‘ট্রান্সফার’ করে দেন তাঁরা। এই স্বীকারোক্তির পরই সুমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। জয়েন্ট অ্যাকাউন্টে তাঁর স্ত্রীর নাম রয়েছে। তাই এই প্রতারণার বিষয়ে তিনি জানতেন কি না, খোঁজখবর চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। অন্য যে ক’টি অ্যাকাউন্টে টাকা গিয়েছে, সেগুলির মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
প্রথমেই পুলিস ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ওই অ্যাকাউন্টের লেনদেনের নথি চেয়ে পাঠায়। সেখানে তদন্তকারীরা দেখেন, টাকা নির্দিষ্ট তিন-চারটি অ্যাকাউন্টে গিয়েছে। সেগুলির ‘ডিটেইলস’ ঘেঁটে দেখা যায়, সুমনকুমার সিং নামে এক ব্যক্তির জয়েন্ট অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে। তিনিই ওই ব্যাঙ্কের ডেপুটি ম্যানেজার! তিনি কীভাবে গ্রাহকের টাকা নিজের জয়েন্ট অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করলেন, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। সুমনকে দীর্ঘক্ষণ জেরা করে পুলিস। টানা জেরায় শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়েন অভিযুক্ত। তিনি ওই টাকা সজ্ঞানে স্থানান্তর করেছেন বলে স্বীকার করে নেন। তদন্তকারীদের তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন অ্যাকাউন্টে লেনদেন না হওয়ায় তিনি ভেবেছিলেন গ্রাহক মারা গিয়েছেন। লোভ সামলাতে পারেননি। টাকা তোলার ফর্ম পূরণের পর বৃদ্ধার সই নকল করে তা জমা দেন নিজের শাখাতেই। ওই পরিমাণ টাকা তিন-চারটি অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফারের আবেদন করেন। ডেপুটি ম্যানেজার হওয়ায় ব্যাঙ্কের কর্মীরা সন্দেহের কোনও অবকাশ রাখেননি। টাকা ‘ট্রান্সফার’ করে দেন তাঁরা। এই স্বীকারোক্তির পরই সুমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। জয়েন্ট অ্যাকাউন্টে তাঁর স্ত্রীর নাম রয়েছে। তাই এই প্রতারণার বিষয়ে তিনি জানতেন কি না, খোঁজখবর চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। অন্য যে ক’টি অ্যাকাউন্টে টাকা গিয়েছে, সেগুলির মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।



