নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিভাজন করবেন না। সকলের সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে শিখুন। দেখছেন না বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শুধু সংঘর্ষ, সংঘাত, হিংসা চলছে। কারণ সেখানে বহুত্ববাদ নেই। ভারত হল বহুত্ববাদ এবং বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের ভরকেন্দ্র। এই মন্তব্য রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবতের। নাগপুরে সাধারণতন্ত্র দিবস পালন অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, দেশকে শক্তিশালী করতে হলে প্রয়োজন ঐক্য। বিভাজনে মেতে রইলে দেশ রক্ষা করা যাবে না। ভাগবত মনে করেন, ধর্মীয় অথবা সামাজিক, কোনও বিভেদেও শান্তি এবং উন্নতি নিয়ে আসতে পারবে না। উন্নয়নকে পাখির চোখ করতে হলে প্রয়োজন ভারতের মধ্যে থাকা বৈচিত্রময় সংস্কৃতিকে বরণ করে নেওয়া। প্রসঙ্গত ঘোষিত অবস্থান এবং প্রচার থেকে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘ সরে এসেছে অসংখ্যবার।
Advertisement
১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট এবং ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারির পর আরএসএস দীর্ঘদিন ভারতের জাতীয় পতাকা তাদের সদর দপ্তরে উত্তোলন করেনি। ২০০১ সালে তিন যুবক প্রথা ভঙ্গ করেই জোর করে সদর দপ্তরে পতাকা উত্তোলন করেছিল। ২০০২ সাল থেকে প্রথা পরিবর্তন করা হয়। পতাকা উত্তোলন শুরু হয়। দ্বিতীয় সঙ্ঘচালক এম এস গোলওয়ালকর ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকাকে জাতীয় পতাকা হিসেবে গ্রহণ করা মেনে নেননি। তাঁর অভিমত ছিল ভারতের পতাকা হবে এক ও একমাত্র গেরুয়া। ২০১৮ সালে মোহন ভাগবত দাবি করেছিলেন, সঙ্ঘের সঙ্গে জাতীয় পতাকার সম্পর্ক অনেকদিনের। একইভাবে বিজেপির ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতির জন্য আরএসএসকেই দায়ী করে বিরোধীরা। সেই আরএসএস প্রধান হঠাৎ বহুত্ববাদ, বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য এরকম ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থানের সপক্ষে প্রচার করতে শুরু করেছেন কেন? এই প্রশ্ন উঠছে।



