নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সিটি সিভিল কোর্টে রিজার্ভ ফোর্সের কনস্টেবল গোপাল নাথের আত্মহত্যার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতার সমস্ত আদালতের বিচারপতি ও বিচারকদের দেহরক্ষীদের কাছে কী আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে, সেই তালিকা চাইল লালবাজার। নির্দিষ্ট ফরম্যাটে তা জানাতে হবে। একইসঙ্গে ডিউটি শেষের পর দেহরক্ষীদের আগ্নেয়াস্ত্র জমা করতে তাঁদের নিজস্ব ইউনিটে।
Advertisement
কয়েকদিন আগে সিটি সাভিল কোর্টে নিজের সার্ভিস রিভলবার থেকে গুলি চালিয়ে আত্মঘাতী হন কনস্টেবল গোপাল নাথ। তিনি ওই আদালতের এক বিচারকের দেহরক্ষী ছিলেন। রিজার্ভ ফোর্সে পোস্টিং থাকা ওই কনস্টেবল কীভাবে আদালতে থাকলেন এবং ডিউটি শেষের পর কীভাবে সার্ভিস রিভলবার নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। লালবাজার খোঁজ করতে গিয়ে জানতে পারে শিয়ালদহ, ব্যাঙ্কশাল, বিচারভবন আলিপুর কোর্ট সহ কলকাতার সমস্ত আদালতে বিচারক বা বিচারপতিদের দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করা পুলিস কর্মীদের তালিকা নিয়মিত আসছে না। দেখা যায়, এক একজন পুলিস কর্মী সেখানে দীর্ঘদিন থেকে গিয়েছেন। নিজস্ব ইউনিটের অস্ত্রভাণ্ডার থেকে সার্ভিস রিভলবার নেওয়ার পর ডিউটি শেষে তা জমা না করে নিজের কাছেই রেখে দিচ্ছেন অনেকে। নিয়মমাফিক আদালতে জিডি এন্ট্রি না হওয়ায় জানা যাচ্ছে না, কোন পুলিসকর্মী কোন অস্ত্র নিয়ে ডিউটি করেছেন। কোনও কারণে আগ্নেয়াস্ত্র হারিয়ে গেলে তার দায়ভার কার উপর বর্তাবে, তা নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। লালবাজারের কর্তারা জানতে পারেন, এই দেহরক্ষীরা নিজের মতো করে ডিউটি করেন। এমনকী কেউ কেউ আবার অস্ত্র না নিয়ে খালি হাতেই ডিউটি করছেন দেহরক্ষী হিসেবে। তাই সিদ্ধান্ত হয়েছে, দেহরক্ষীদের কাছে কী অস্ত্র রয়েছে, তা জানাতে হবে নির্দিষ্ট নিয়মে। এই তালিকা লালবাজারের কাছে থাকবে। যাতে কোনও অস্ত্র নিয়ে গোলমাল দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট সার্ভিস রিভলবার কার কাছে ছিল, তা চিহ্নিত করা যায়।



