


নয়াদিল্লি: সেপ্টেম্বরের ৯ তারিখ শুরু এশিয়া কাপ। সেই মতো টিম ইন্ডিয়ার নতুন জার্সি তৈরি হয়ে গিয়েছিল। চুক্তি মতো স্পনসর হিসেবে জার্সিতে ছাপা হয়েছিল ড্রিম ইলেভেনের লোগো। কিন্তু অনলাইন গেমিং বিল পাশ হওয়ায় ভেস্তে গেল সব পরিকল্পনা। কারণ, অর্থের বিনিময়ে অনলাইনে আর গেম খেলা যাবে না। ড্রিম ইলেভেনের এটাই কোর বিজনেস। ফলে তাদের ব্যবসার ঝাঁপ বন্ধ হওয়া স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। এই পরিস্থিতিতে কোটি কোটি টাকা খরচ করে টিম ইন্ডিয়ার টাইটেল স্পনসরশিপ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আর তা ভালোই বুঝেছেন ড্রিম ইলেভেন কর্তৃপক্ষ। তাই চুপিচুপি তাঁরা মুম্বইয়ে বিসিসিআইয়ের হেড অফিসে গিয়ে স্পনসরশিপ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন। বাকি শুধু সরকারি ঘোষণা। আর তাতেই বিপাকে বিসিসিআই। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি গিল, সূর্যকুমাররা এশিয়া কাপে স্পনসর ছাড়াই খেলবেন?
বিসিসিআই চাইছে, দ্রুত ড্রিম ইলেভেনের বদলে অন্য কোনও স্পনসরের সঙ্গে চুক্তি করতে। কিন্তু তার জন্য দরপত্র হাঁকতে হবে। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে লাগবে বেশি কিছুটা সময়। তবে দু’টি সংস্থা ইতিমধ্যে ভারতীয় ক্রিকেট দলের স্পনসর হওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। টয়োটা মোটর কর্পোরেশন নাকি ড্রিম ইলেভেনের জায়গা নিতে আগ্রহী। একটি ফিনটেক স্টার্ট আপ সংস্থাও দরপত্র জমা দিতে পারে। তবে সবার আগে ড্রিম ইলেভেনের সঙ্গে চুক্তি ছিন্ন করতে হবে বিসিসিআইকে। ২০২৩ সালে ৩৫৮ কোটির বিনিময়ে তিন বছরের চুক্তি হয়েছিল ড্রিম ইলেভেন ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের। সেই মেয়াদ শেষ হবে ছাব্বিশে। মাঝপথে চুক্তিভঙ্গ হলে কি ক্ষতিপূরণ পাবে বিসিসিআই? এই প্রশ্নের জবাবে বোর্ডের এক কর্তা জানিয়েছেন, ‘সেই সম্ভাবনা নেই। চুক্তিপত্রে স্পষ্ট লেখা আছে সরকারি নিয়মের কারণে যদি স্পনসরশিপ বাতিল হয়, তাহলে কোনও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না।’ অর্থাৎ ড্রিম ইলেভেন এই সুবিধা পাবে।
তবে পরিসংখ্যান বলছে, অতীতে এমন বেশ কিছু সংস্থার সঙ্গে বিসিসিআই স্পনসরশিপ হিসেবে চুক্তি করেছে, যারা অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। কোনও কোনও কোম্পানি উঠেছে লাটে। সেই আতঙ্কেই কি অনেকে টিম ইন্ডিয়ার স্পনসর হওয়ার আগ্রহ হারাচ্ছে? বোর্ডের এক শীর্ষকর্তার দাবি, ‘এগুলো কাকতালীয় ঘটনা। নিশ্চিত করে বলতে পারি, টিম ইন্ডিয়ার স্পনসরশিপ পেতে কোনও সমস্যা হবে না। তবে আমরা তাড়াহুড়ো করার পক্ষে নই। সবদিক খতিয়েই পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে শুধু এশিয়া কাপের জন্য আলাদা করে স্পনসর নেওয়া যায় কিনা, সেটাও ভেবে দেখা হচ্ছে।’