Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / বিনোদন

বাবাকে উপেক্ষা করা হয়েছে: অন্তরা

বাবাকে উপেক্ষা করা হয়েছে: অন্তরা
  • ১২ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সলিল চৌধুরীর জন্ম শতবর্ষ উদযাপনের প্রিল্যুড নিয়ে নানা পরিকল্পনা ভাগ করে নিলেন শিল্পী কন্যা অন্তরা চৌধুরী।
Advertisement
‘বাবাকে অবহেলা করা হয়েছে। শেষ জীবনে বাবা একা বসে থাকতেন। কেউ আসত না। বাবা বলতেন, এখন কেউ আমাকে পাত্তা দিল না। আমি যেদিন চলে যাব, তার ৫০ বছর পর আমার গান নিয়ে রিসার্চ হবে’, বলছিলেন বিরল প্রতিভাধর সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব সলিল চৌধুরীর কন্যা অন্তরা চৌধুরী। আগামী ১৯ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে সলিল চৌধুরীর জন্ম শতবর্ষ উদযাপনের প্রিল্যুড। বছরভর নানা অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করেছেন অন্তরা। ‘বাবা দুঃখ পেতেন। আবার ভীষণ পজিটিভও ছিলেন। বাবার গানের মধ্যেই আছে, ‘যা গেছে তা যাক’, আগামী কাল একটা নতুন দিন। আরও ভালো কিছু হবে’, বললেন শিল্পী কন্যা।
বাবাকে নিয়ে বলতে শুরু করে অতীতে ফিরে গেলেন অন্তরা। ‘আমার তখনও জন্ম হয়নি। বাবার মুখে শুনে যেটুকু বুঝেছি, সংসার, সন্তানের মুখ চেয়ে বিমল রায়ের ডাকে মুম্বই গিয়েছিলেন। সেখানে হিন্দি ছবিতে কাজ শুরু করার পরও মানুষের কন্ঠস্বর, তাঁদের আর্তি বাবা ভুলতে পারেনি। মন পড়ে থাকত বাংলায়। ভীষণ র‌্যাডিকাল ছিলেন। অথচ ওঁকে গণ্ডির মধ্যে বেঁধে দেওয়া হচ্ছিল’, বললেন শিল্পী কন্যা। 
সমকালীন সমাজ সলিলকে বোঝেনি বলেই মনে করেন অন্তরা। তা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে বললেন, ‘ভুল বোঝাবুঝি, পলিটিক্স, বাবাকে খুব আঘাত করেছিল। বাবা আলাদা স্তরের মানুষ ছিলেন। কেউ জিনিয়াস মানুষটিকে ঠিক বুঝতে পারতেন না বলেই বাবাকে উপেক্ষা করা হয়েছে।’ এবার মানুষ সলিল চৌধুরীর সঠিক মূল্যায়ন করবেন, এই আত্মবিশ্বাসে আগামী এক বছরের অনুষ্ঠানের গুছিয়ে পরিকল্পনা করেছেন অন্তরা। জানালেন, উদযাপন শুরু হয়েছে গত বছর থেকেই। ইতিমধ্যেই একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ১৯ নভেম্বর বিড়লা সভাঘরে শোনা যাবে সলিল চৌধুরীর আধুনিক, হিন্দি ও বাংলা জনপ্রিয় গান। আগামী বছরে পরিকল্পনায় রয়েছে প্রদর্শনী, সঙ্গীত প্রতিযোগিতা, চলচ্চিত্র উৎসব, আলোচনা সভা। পাশাপাশি সলিল চৌধুরীর লেখা নাটক ‘ড্রেসিং টেবিল’কে মঞ্চস্থ করতে চান অন্তরা। উৎসাহী কন্যার কথায় ‘এই রকম একটা গ্র্যান্ড লাইফ। গ্র্যান্ড মিউজিক ধুমধাম করে সেলিব্রেট করতেই হবে।’ 
শিক্ষক পিতার গুরুবাক্য আজীবন মনে রেখে চলতে চান অন্তরা। ‘বাবা বলতেন, যতই ট্যালেন্ট থাকুক, তার উপর হার্ড ওয়ার্ক না করলে প্রতিভাকে এগিয়ে যেতে পারবে না।’ সেই শিক্ষাতেই ইদানীং রিয়ালিটি শো-গুলি দেখে অবাক হন অন্তরা। স্পষ্ট বললেন, ‘রিয়ালিটি শো-গুলিতে দেখি ছোটরা বড়দের গান গাইছে। প্রেমের গান গাইছে। অবাক হই। ছোটরা তো ছোটদেরই গান গাইবে। ছোটদের জন্য বাবার বহু গান রয়েছে। অনেকে ভুলে গিয়েছেন, না হয় জানেন না।’ 
বাবা, গুরু, বন্ধু সলিল চৌধুরীকে ঐতিহাসিক উপেক্ষার ঘোলাটে অতীত থেকে উদ্ধার করে নতুন সম্ভাবনার ‘আলোর পথযাত্রী’ করার প্রচেষ্টায় রয়েছেন অন্তরা। 
প্রিয়ব্রত দত্ত
সম্পর্কিত সংবাদ