


সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ : মরশুমের শুরুতে ভালো পরিমাণ ইলিশ মিলছিল সমুদ্র থেকে। ঝাঁকে ঝাঁকে জালে উঠছিল। কিন্তু সম্প্রতি আবহাওয়া খামখেয়ালি আচরণ শুরু করেছে। মাছ ধরতে গভীর সমুদ্রে যেতে পারছেন না মৎসজীবীরা। ফলে বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়েছে সুন্দরবনের কয়েক হাজার মাছ শিকারি।
১৪ জুন থেকে সমুদ্রে মাছ ধরার উপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা উঠে গিয়েছে। তারপর ট্রলার নিয়ে গভীর সমুদ্রে পাড়ি দিয়েছিলেন মৎসজীবীরা। তখন প্রথম তিন দিনেই কয়েকশ টন ইলিশ জালে উঠেছিল। কিন্তু তারপর হঠাৎ মুখ ভার করেছে আবহাওয়া। বঙ্গোপসাগর উত্তাল। এই পরিস্থিতিতে বেশিরভাগ মৎস্যজীবী ট্রলার নিয়ে উপকূলের কাছাকাছি চলে এসেছেন। জুলাই মাস পড়ে গিয়েছে। নিষেধাজ্ঞা ওঠার পর ১৫ দিনেরও বেশি সময় কেটে গিয়েছে। কিন্তু বেশিরভাগ ট্রলার উপকূলে হাত গুটিয়ে বসে রয়েছে। যার ফলে মরশুম শুরুর মুখেই বড়সড় ক্ষতির মুখে মৎস্যজীবীরা। ত্রিলোকেশ জানা নামে কাকদ্বীপের এক ট্রলার মালিক বলেন, ‘মরশুমের প্রথম ক’টা দিন ভালো ইলিশের দেখা মিলেছিল। স্বভাবতই মৎস্যজীবীরা ভেবেছিলেন এ বছর ভালো পরিমাণ মাছ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু তারপর থেকেই সমুদ্র উত্তাল। হাতে গোনা কয়েক দিন সমুদ্রে মাছ ধরার সময় পাওয়া গিয়েছে। সে কারণে মৎস্যজীবীরা ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে।’
কাকদ্বীপ ফিশারম্যান ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিজন মাইতি বলেন, ‘মরশুমের একদম প্রথমে সমুদ্রে ইলিশের ঝাঁকের দেখা মিলেছিল। চারবছর পর সমুদ্রে এরকম দৃশ্য দেখা গিয়েছিল। সে সময় প্রতিটি ট্রলার কমবেশি করে মাছ পেয়েছে। বাজারে দামও ভালো ছিল। কিন্তু দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সমুদ্র হঠাৎই উত্তাল হয়ে ওঠে। এখন মৎস্যজীবীরা অধিকাংশ সময় সমুদ্রে মাছ ধরতে পারছেন না। এই পরিস্থিতিতে মৎস্যজীবীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।’ - নিজস্ব চিত্র