পাপ্পা গুহ, উলুবেড়িয়া: কথায় আছে, ‘নেতা গেলে জৌলুসও যায়’। একটা সময় ছিল, যখন তৃণমূল নেতাদের তত্ত্বাবধানে থাকা পুজো নজর কাড়ত দর্শনার্থীদের। কিন্তু রাজ্যে পালাবদল হতেই ওই নেতাদের আর দেখা যাচ্ছে না। তাঁরা পুজোতেও নেই। ফলে সেইসব পুজোর জৌলুস অনেকটাই ফিকে হয়েছে এবার। কমেছে পুজোর বাজেট। মণ্ডপ থেকে আলোকসজ্জা— সব কিছুতেই বাজেট কমানো হয়েছে। হাওড়ার বাউড়িয়ায় তৃণমূলের আমলে দু’টি পুজো নজর কেড়েছিল। তার মধ্যে একটি হাটবাউড়িয়া এবং অন্যটি যুবগোষ্ঠীর। সুদৃশ্য মণ্ডপ, চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জা থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান— সব কিছুতেই তারা টেক্কা দিত অন্য পুজোগুলিকে। দর্শনার্থীদের ভিড় উপচে পড়ত এই দুই মণ্ডপে। গত কয়েক বছর ধরেই এই দু’টি পুজোর দায়িত্বে ছিলেন তৃণমূলের দুই দাপুটে নেতা।
হাটবাউড়িয়া ও যুবগোষ্ঠীর পুজোর তত্ত্বাবধানে ছিলেন তৃণমূলের দুই নেতা বেণুকুমার সেন ও স্থানীয় কাউন্সিলার সুমন সাঁপুই। গত বিধানসভা ভোটের পর রাজ্যে পালাবদল হতেই বেপাত্তা তাঁরা। তাই এই দুই পুজোর দায়িত্ব অন্যরাই কাঁধে তুলে নিয়েছেন। হাটবাউড়িয়ার পুজো এবার ৭১ বছরে পদার্পণ করল। গত কয়েক বছর ধরে এই পুজোর বাজেট ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ টাকার আশপাশে ছিল। এবার সেই বাজেট নেমে এসেছে অনেকটাই। তামিলনাড়ুর এক মন্দিরের আদলে তৈরি মণ্ডপ এবার আকারে ছোটো। কমানো হয়েছে অন্যান্য খরচও। পুজো কমিটির সম্পাদক শ্রীকুমার কোলে বলেন, বেণু সেন নিরুদ্দেশ হওয়ার পর পুজোর আয়-ব্যয়ের হিসাবের খাতাও আর পাওয়া যায়নি। কোথা থেকে টাকা আসত, কিছুই বুঝতে পারছি না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, বেণু সেনের আমলে জোর করে চাঁদা আদায় করা হত। যাঁর থেকে যেমন পারতেন, চাঁদা নিতেন। রাস্তা বন্ধ করে মণ্ডপ বাঁধা হত। দীর্ঘদিন ওই রাস্তা বন্ধ থাকত। মানুষের যাতায়াতের সমস্যা হত। এবার সেইসব হচ্ছে না।
অন্যদিকে, বাউড়িয়া যুবগোষ্ঠীর পুজো এবার ৫৮ তম বর্ষে পদার্পণ করল। গুজরাতের অক্ষরধাম মন্দিরের আদলে মণ্ডপ নির্মাণ করা হচ্ছে। পুজোর বাজেট প্রায় আট লক্ষ টাকা। পুজো কমিটির সম্পাদক অমর পাত্র বলেন, যে কয়েক বছর সুমন সাঁপুই পুজো পরিচালনা করেছেন, তাতে কারও মতামত নিতেন না। নিজের ইচ্ছামতো সব কিছু করতেন। তিনি এবার না থাকায় আমরা নিজেরাই সবটা করছি। বাজেট কিছুটা কমানো হয়েছে। তবে পুজোর বাজেট কমলেও জৌলুস কোনোভাবেই কমবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।



