Bartaman Logo
২০ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিশ্বভারতীর কাছে এবার জমি ফেরত চাইলেন বাউল শিল্পী পূর্ণদাস বাউল

বিশ্বভারতীর কাছে জমি ফেরতের আবেদন জানালেন বাউল শিল্পী পূর্ণদাস বাউল। ওই জমিতে বাউল শিল্পীর সংগ্রহশালা গড়তে চান তাঁর ছেলে

বিশ্বভারতীর কাছে এবার জমি ফেরত চাইলেন বাউল শিল্পী পূর্ণদাস বাউল
  • ২০ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: বিশ্বভারতীর কাছে জমি ফেরতের আবেদন জানালেন বাউল শিল্পী পূর্ণদাস বাউল। ওই জমিতে বাউল শিল্পীর সংগ্রহশালা গড়তে চান তাঁর ছেলে। একইসঙ্গে ইলামবাজার ব্লকের কামারপাড়া এলাকায় তাঁর জমি ফেরানোরও আর্জি জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার সিউড়িতে জেলাশাসকের কাছে আবেদন জানান। বুধবার দুপুরে বোলপুরের একটি সরকারি গেস্টহাউসে সাংবাদিক সম্মেলন করেন পূর্ণদাসবাবু ও তাঁর ছেলে দিব্যেন্দু দাস বাউল। বিশ্বভারতীর উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের কাছে ই-মেলে লিখিত আবেদনও জানিয়েছেন তিনি। এব্যাপারে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, আবেদনপত্র পেলে তারপর বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ দাবিটি বিচার করে দেখবে।

Advertisement

শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী ক্যাম্পাস লাগোয়া ভুবনডাঙায় তাঁর একটি আশ্রম সহ জমি ছিল বলে পূর্ণদাসবাবুর দাবি। জমির পরিমাণ আনুমানিক আড়াই থেকে তিন বিঘা। তাঁর দাবি, ২০০৮সালের জুলাই থেকে ওই জমি বিশ্বভারতী নিজেদের বলে দাবি করে মামলা করে। পরে বসতবাড়ি ও মন্দির সহ জমিটি বিশ্বভারতী নিজেদের বলে দাবি করে। জমিটে দখল করে রাখা হয়েছিল বলে কর্তৃপক্ষের দাবি। বিশ্বভারতীর তরফে সেটি সিল করে দেওয়া হয়। আশ্রমের ভিতরে তিনি বাবা লোকনাথের একটি মন্দির তৈরি করেছিলেন। প্রায় ১৮বছর ধরে সেই মন্দির বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। একইসঙ্গে সেখানে থাকা কয়েকটি বৈষ্ণব সমাধিতেও নিয়মিত পুজো-অর্চনা হচ্ছে না বলে দাবি তাঁর। এদিন আবেদনপত্রে মন্দিরের দরজা সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন পূর্ণদাস। দিব্যেন্দুবাবু বলেন, এই জায়গায় একটি বাউলের সংগ্রহশালা গড়ে তুলতে চাই। সেখানে বাবার পদ্মশ্রী সহ দেশ-বিদেশের পুরস্কার, বাউল বিষয়ক কাজকর্ম সংরক্ষিত আকারে থাকবে। জায়গাটা যাতে ফিরে পাই সেজন্য আমরা বিশ্বভারতীর কাছে আবেদন করছি।
ইলামবাজারের কামারপাড়া মৌজায় তাঁর জমি ফেরানোর দাবিও দীর্ঘদিনের। ১৯৭৭সালে রাস্তার ধারে প্রায় চার বিঘা জমি কেনার কথা আগেই জানিয়েছিলেন পূর্ণদাস। তাঁর অভিযোগ, ২০০৬ সালের পর থেকে ধীরে ধীরে ওই জমি জবরদখল হয়ে যায়। ২০২৩সালের জানুয়ারিতে প্রশাসনের উদ্যোগে জমির মাপজোকও শুরু হয়েছিল। তবে জমি এখনও পুরোপুরি ফেরত পাননি বলে দাবি করেছিলেন তিনি। দিব্যেন্দুবাবু বলেন, এই জায়গা ফেরত পাওয়ার জন্য তৃণমূল বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিংহ ও অনুব্রত মণ্ডলের কাছেও গিয়েছি। কিন্তু সেই জায়গা ফেরত পাইনি। তাই রাজ্যে পালাবদলের পর জেলাশাসকের কাছে বিষয়টি জানিয়েছি। একইসঙ্গে বিষয়টি তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও জানিয়েছেন বলে জানান। পূর্ণদাসবাবু বলেন, জীবনের শেষ পর্বে এসে আমি ওই জমি ফিরে পেতে চাই। ইলামবাজারের জমিটি ফিরে পাওয়ার জন্য প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি। এব্যাপারে জেলাশাসক ধবল জৈন বলেন, উনি একটি লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ