সংবাদদাতা, বজবজ: কলিঙ্গ যুদ্ধের লাখো মানুষের মৃত্যুর যন্ত্রণা থেকেই সম্রাট অশোক চণ্ডাশোক থেকে ধর্মাশোকে রূপান্তরিত হয়েছিলেন। সেই ঘটনাকে স্মরণীয় করে রেখেছে ওড়িশার ‘ধবলগিরি’ সৌধ। এবার বাটা নিউল্যান্ডের পুজোয় প্রধান চমক সেই ‘ধবলগিরি’। বিশ্বজুড়ে ধ্বংস আর মৃত্যুর মিছিল। তার পরিপ্রেক্ষিতেই সকলের অন্তরে অশোকের শান্তি ও অহিংসার বার্তা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই এই ধবলগিরির উপস্হাপনা। মহালয়ার দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাটা নিউল্যান্ডের এই পুজোর ভার্চুয়াল উদ্বোধন করবেন। উদ্যোক্তারা মনে করছেন, অন্যবারের মতো এবারও প্রচণ্ড ভিড় হবে। তাই তৃতীয়ার দিন খুলে দেওয়া হচ্ছে তাঁদের শান্তির সৌধ ‘ধবলগিরি’। এই স্থাপত্যে কারুকাজ করতে ওড়িশা থেকে এক নামী শিল্পীকে আনা হয়েছে। ধবলগিরির সৌধ হুবহু ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। ফোম, বাঁশ এবং কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে। সাদা ধবধবে ধবলগিরির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মা দুর্গার পোশাক ও মুখের ভাবে থাকবে শান্তির বাতাবরণ।
বাটা নিউল্যান্ড এবার ৭৯ বছরে পা দিচ্ছে। বাজেট প্রায় ৫০ লক্ষ। পুজো কমিটির সাধারণ সম্পাদক পিনুআদিত্য চৌধুরী বলেন, এবার ওড়িশার ধবলগিরি করেছি। সম্রাট অশোককে এক সময় চণ্ডাশোক বলা হতো। এত নিষ্ঠুর ও নির্দয় ছিলেন যে, রাজসিংহাসন দখল ও রাজ্য বিস্তারের জন্য খুন করতে হাত কাঁপেনি কখনও। অশোক খ্রীষ্টপূর্ব ২৬১ সালে রাজ্য বিস্তারের জন্য কলিঙ্গ আক্রমণ করেন। দয়া নদীর ধারে ধৌলি পাহাড়ের পাশে, যা এখন ধবলগিরি, অশোকের সঙ্গে কলিঙ্গ রাজ্যের সেনাদের ভয়ঙ্কর যুদ্ধ হয়। তাতে প্রায় এক লাখ সেনার মৃত্যু হয়। দয়া নদীর জল লাখো মৃতদেহের রক্তে লাল হয়ে যায়। অশোক জয়ী হন। কিন্তু এত রক্তপাত ও মৃত্যু অশোকের হৃদয়ে তীব্র যন্ত্রণা এনে দেয়। এই ঘটনায় বদলে যান অশোক। সিংহাসন ছেড়ে ভগবান বুদ্ধের অহিংস ভাবনায় নিজেকে বিলিয়ে দেন।
পুজো কমিটির সম্পাদক বলেন, পুরো বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করছি। তাছাড়া এবারও পুজোর ক’দিন যাত্রাপালা হবে। যষ্ঠীর দিন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের কৃতী ছাত্রছাত্রীদের পুরস্কার দেওয়া হবে।