নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে মতুয়া সম্প্রদায়ের বারুণী মেলা নিয়ে বুধবার উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদে শুনানি হল। শুনানির শেষে দু’পক্ষই এবার মতুয়া মেলা একসঙ্গে করার পক্ষেই মত প্রকাশ করেছে। তবে, মেলার সার্বিক অনুমতি পেতে আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে চায় দু’পক্ষই। শেষ পর্যন্ত মেলার অনুমতি মিলেছে তৃণমূল প্রভাবিত মতুয়া মহাসঙ্ঘের। কিন্তু, তারা চায় মেলা একসঙ্গেই করতে!
মতুয়া ধর্মগুরু হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মদিন উপলক্ষ্যে চৈত্র মাসের মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশী তিথিতে বারুণী মেলা হয় ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে। এই মেলাকে ঘিরে রয়েছে মতুয়া সম্প্রদায়ের আবেগ ও উচ্ছ্বাস। ১৫ বছর যাবৎ মতুয়া মেলার অনুমতি পেয়ে আসছেন তৃণমূল প্রভাবিত অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি মমতা ঠাকুর। আগেও মেলার অনুমতি ও দখলদারি নিয়ে মমতা ও শান্তনু ঠাকুরের দ্বন্দ্ব সর্বজনবিদিত। প্রতিবছরের মতো এবারও মেলার অনুমতি পান মমতা ঠাকুর। অনুমতি দেয় উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদ। কিন্তু বারুণী মেলার অনুমতি চেয়ে হাইকোর্টে মামলা করেন বিজেপি প্রভাবিত অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর।
গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহার পর্যবেক্ষণ, ১৯৭৩ সালের পঞ্চায়েত আইন আসার পরই অবলুপ্ত হয়ে গিয়েছে ১৯৬৩ সালের জেলা পরিষদের আইন। তারপরও জেলা পরিষদ ওই আইনে একপক্ষকে মেলার অনুমতি দিয়েছে। এর কোনও আইনি বৈধতা নেই বলেই পর্যবেক্ষণ ছিল বিচারপতির। সেইমতো মেলার অনুমতি বাতিল করে দেয় আদালত। পাশাপাশি ১৯ মার্চের মধ্যে দু’পক্ষকে আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হয় জেলা পরিষদে। সেইমতো বুধবার উভয়পক্ষকে নিয়ে জেলা পরিষদে শুনানি সারে জেলা প্রশাসন। উপস্থিত ছিলেন মমতা ঠাকুরের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর মেয়ে তথা বাগদার তৃণমূল বিধায়ক মধুপর্ণা ঠাকুর, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিৎ ঘোষ এবং অনান্যরা। অন্যদিকে শান্তনুর প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুখেন্দু গায়েন এবং কয়েকজন আইনজীবী।
শুনানি শেষে মেলার অনুমতি নিয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি এবছর দু’পক্ষ একইসঙ্গে মিলেমিশে মেলা করার পক্ষেই মতপ্রকাশ করেছে। এনিয়ে মধুপর্ণা বলেন, এদিন শুনানিতে আমরা জিতেছি। তবে, আমরা চাই মেলা একসঙ্গেই হোক। মা ১৫ বছর ধরে মেলার অনুমতি পেয়ে আসছেন। তাই অনুমতি আমাদের নামেই হয়েছে। শান্তনু ঠাকুর, সুব্রত ঠাকুর আমার দাদা। তাই একসঙ্গে মিলে করা নিয়েও দাদাদের সঙ্গে কথা বলব।
এদিকে শান্তনুর প্রতিনিধি সুখেন্দু গায়েন বলেন, পুরনো আইন অনুযায়ী মমতা ঠাকুর যে অনুমতি পাচ্ছেন সেটা নতুন আইনে পাওয়া উচিত নয়। তবে, দু’পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কমিটি তৈরি করা হবে। তার মাধ্যমে পরিচালিত হবে মতুয়া মেলা।
এই বিষয়ে জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী বলেন, সমস্ত কাগজ জমা দিয়েছেন মমতা ঠাকুরের মেয়ে মধুপর্ণা ঠাকুর। কিন্তু, শান্তনু ঠাকুরের প্রতিনিধি তা দিতে পারেননি। তাই শুনানির রায় যা হওয়ার সেটাই হয়েছে। এনিয়ে বিশেষ কিছু বলব না।