সংবাদদাতা, মেখলিগঞ্জ: একদিকে নদী, অন্যদিকে চা বাগান। চারপাশে ধানখেত। সবুজে ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। কিন্তু সেই সৌন্দর্যের আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক বড় সমস্যা। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের কোনও পাকা রাস্তা নেই। বছরের পর বছর ধরে খুদে পড়ুয়ারা জমির আলপথ মাড়িয়ে কিংবা কাদা জল পেরিয়ে স্কুলে পৌঁছয়। বৃহস্পতিবারও এমনই ছবি ধরা পড়ল। বৃষ্টির কারণে চারপাশে জল জমে রয়েছে। পা ফেলার জায়গা নেই। তবু কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে ছোট ছোট ছাত্রছাত্রীরা দলে দলে হেঁটে যাচ্ছে বিদ্যালয়ের দিকে।
বিদ্যালয়ের নাম বারুণী হরিবাসর চতুর্থ প্ল্যান প্রাথমিক বিদ্যালয়। এটি কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ ব্লকের জামালদহ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় রয়েছে। স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে মোট পড়ুয়ার সংখ্যা ৪৯ জন। তাদের পড়াশোনার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন মাত্র ৩ জন শিক্ষক। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিদেশ সিংহ বলেন, বিদ্যালয়ে প্রবেশের কোনও নির্দিষ্ট রাস্তা নেই। অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীকে জমির আলপথ ধরে আসতে হয়। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে জমিতে জল দাঁড়িয়েছে। ফলে কাদা জল পেরিয়েই পড়ুয়াদের স্কুলে আসতে হচ্ছে। বিষয়টি অভিভাবক থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সকলেই জানেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, স্বাধীনতার ৭৭ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও বিদ্যালয়ের পথে একটি পাকা রাস্তা তৈরি হয়নি। প্রশাসন ও পঞ্চায়েতকে একাধিকবার জানানো হলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। অভিভাবকদের বক্তব্য, প্রতিদিন সন্তানদের এভাবে স্কুলে পাঠানো তাঁদের কাছে দুশ্চিন্তার কারণ। বিশেষ করে বর্ষাকালে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যায়। অভিভাবক তপন বর্মনের ক্ষোভ, আমাদের ছেলেমেয়েরা কাদা জল মাড়িয়ে স্কুলে যায়। কতবার বলেছি, কিন্তু রাস্তার ব্যবস্থা হয়নি।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা জানিয়েছেন, শুধু পড়ুয়াদেরই নয়, তাঁদেরও একই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। বর্ষার সময় একদিকে নদীর ভাঙন, অন্যদিকে কাদা জল মাড়িয়ে যাতায়াত করা কার্যত দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। এলাকাবাসীর দাবি, স্কুলের প্রবেশপথে একটি পাকা রাস্তার ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি। প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষাজীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অবশ্য প্রতিদিন ভোগান্তির মুখে দাঁড়িয়েও পড়াশোনার প্রতি অদম্য আগ্রহ দেখাচ্ছে এই গ্রামের খুদে পড়ুয়ারা। রেশমী, মনোজ, বর্ণিতাদের দৃঢ়তা যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, সব প্রতিকূলতার মাঝেও শিক্ষা গ্রহণের স্বপ্ন থেমে থাকে না।
মেখলিগঞ্জ সার্কেলের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক পরিতোষ ওরাওঁ বলেন, বিদ্যালয়ের সমস্যা সম্পর্কে আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি ইতিমধ্যেই নথিভুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, মেখলিগঞ্জের বিডিও অরিন্দম মণ্ডল জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ের প্রবেশপথের সমস্যাটি আমাদের নজরে রয়েছে। প্রশাসনিক স্তরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।