Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অসুস্থ মা-বাবাকে দেখতে বাংলাদেশ যেতে চেয়েছিলেন, আত্মঘাতী বারাকপুরের গৃহবধূ

গায়ে আগুন দিয়ে আত্মঘাতী হলেন বারাকপুর পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মাঠপাড়ার কে জি স্কুল রোডের বাসিন্দা কাকলি সরকার (৩৩)।

অসুস্থ মা-বাবাকে দেখতে বাংলাদেশ যেতে চেয়েছিলেন, আত্মঘাতী বারাকপুরের গৃহবধূ
  • ১ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: গায়ে আগুন দিয়ে আত্মঘাতী হলেন বারাকপুর পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মাঠপাড়ার কে জি স্কুল রোডের বাসিন্দা কাকলি সরকার (৩৩)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর দুই সন্তান রয়েছে। তাঁর বাবা-মা বর্তমানে বাংলাদেশে থাকেন। তাঁরা অসুস্থ ছিলেন। কাকলিদেবী তাঁদের দেখতে যেতে চেয়েছিলেন। পরিবারের লোকজন পরে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। তবে কি সেই অভিমানে আত্মঘাতী হলেন কাকলি সরকার? তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। 

Advertisement

মৃতার শাশুড়ি শিবানী সরকারের দাবি, ‘১৫ বছর আগে বাংলাদেশের ঢাকা নবাবগঞ্জের বাসিন্দা কাকলি আমার ছেলে সবুজকে বিয়ে করে ভারতে আসে। বউমার বাবা-মা বাংলাদেশেই থাকেন। এস আই আর চালু হওয়ার পর থেকেই আতঙ্কে ছিল। বলেছিল, হয়তো বাংলাদেশেই আবার ফিরে যেতে হবে পাকাপাকিভাবে।’ তার মধ্যেই খবর আসে, বাংলাদেশে তাঁর বাবা-মা অসুস্থ। সূত্রের খবর, কাকলিদেবী মা-বাবাকে দেখতে বাংলাদেশ যেতে চাইলে তাঁর স্বামী সবুজ বলেছিলেন, এসআইআর নিয়ে ঝামেলা মিটে গেলে তাঁকে বাংলাদেশে নিয়ে যাবেন। এরমধ্যেই বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ঘরে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেন কাকলিদেবী। ইতিমধ্যে তাঁর স্বামী সবুজ সরকার, শ্বশুর সুরেশ সরকার, ভাসুর শান্তি সরকারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। 
বারাকপুরের পুলিশ কমিশনার মুরলীধর শর্মা জানিয়েছেন, মৃত কাকলি সরকার সুইসাইড নোটে মৃত্যুর কোনও কারণ উল্লেখ করেননি। বরং লিখে গিয়েছেন, তাঁর মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। তবে আমরা সমস্ত দিকই খতিয়ে দেখছি।’  তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন দলের ভার্চুয়াল মিটিংয়ে শুরুতেই কাকলি সরকারের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করেন। তাতে বিভিন্ন মহলে রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায়। বারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কথা বলার পর জানান, ‘ভদ্রমহিলার বাপের বাড়ি বাংলাদেশে। তাঁর বাবা-মা এখনও বাংলাদেশেই থাকেন। ১৫ বছর হল, বিয়ে হয়েছে। এসআইআরের কথা শোনার পর থেকে হয়তো আতঙ্কে ছিলেন। সেই কারণে এই ঘটনা কি না, পুলিশ খতিয়ে দেখছে। যে কোনও মৃত্যুই দুঃখজনক। আমরা পরিবারের পাশে আছি।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ