নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গুমোট গরম। রাস্তায় বেরলেই ঘাম গড়িয়ে পড়ছে কপাল বেয়ে। তাতে কী? বৃষ্টি তো আর নেই! তাই এমন দিনে পুজোর বাজার ছাড়া আর কোনও কাজই থাকতে পারে না। নিউ মার্কেট, গড়িয়াহাট, হাতিবাগান, বড়বাজার সেই দৃশ্যই দেখাল। মহালয়া পড়েছে একুশে। তার আগে তো মাত্র দু’টো রবিবার। তাহলে বাজার করার সময় কই? সকালে ঘুম থেকে উঠে এমনই মনে হয়েছিল কসবার শৌণক সাহার। তাই দুপুরেই বন্ধুদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ‘প্ল্যান’ ছকে বিকেলে চলে এসেছেন গড়িয়াহাট।
দোকান পেরিয়ে খানিক এগিয়ে গিয়েছেন রূপা। এখন শুধু ইশারায় কথা হচ্ছে দোকানির সঙ্গে। দোকানি বলছেন, সাড়ে ৫০০। রূপা দূর থেকে পাঁচ আঙুল দেখাচ্ছেন। পাশ থেকে তাঁর বন্ধু বলছেন, ৫০০ হলেই যাব। তারপর দোকানির থেকে ৫২০ টাকার অফার এলো। এবারও নাছোড় রূপা। শেষে উড়ে এলো সেই কাঙ্ক্ষিত শব্দ, ‘আসুন’। কলেজ পড়ুয়া রূপা যেমন দরদামে হাত পাকাচ্ছেন, তেমনই পুজোর বাজারের পোড় খাওয়া যোদ্ধা লেক গার্ডেন্সের তপতী সাহা বিশ্বাসী একদামে। বলছিলেন, ‘আমি বাজেট ঠিক করে আসি। আজকে যেমন ব্লাউজ কিনতে এসেছি। আমার বাজেট ফিক্সড। তার চেয়ে একটাকাও বেশি দাম দেব না।’ গড়িয়াহাটের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ‘আজ বৃষ্টি নেই। বাজার হচ্ছে মোটামুটি। তবে চারজন করে লোক আসছেন, একটা জামা কিনতে।’ আবার এদিনই ছিল টিচার্স ডে। স্যারের জন্য গিফট কিনতে এসে পাশের দোকানে ঢুঁ মেরে পুজোর জামা কিনে নিয়ে গেলেন অনেকে। ওদিকে নিউ মার্কেটে আবার তিল ধারণের জায়গা নেই। সন্ধ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভিড়ের প্রতিযোগিতায় নেমেছে হাতিবাগান আর নিউ মার্কেট। ঘেমেনেয়ে দোকানের বাইরেই দাঁড়িয়ে রয়েছেন বাড়ির কর্তা। মেয়ে শুধু জামা হাতে বাবাকে দেখাচ্ছেন, ‘এটা ভালো?’ বাবার উত্তর, ‘কত বলছে?’ দাম শুনে পরামর্শ, ‘কমাতে বল।’ পুজোর আগে এমনই টুকরো চেনা দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ছে শহরের বুকে।
অফিস থেকে ফেরার পথে হাওড়ার বাসিন্দা সজল মুখোপাধ্যায় হঠাত্ই বাস থেকে নেমে পড়লেন বড়বাজারে। পরিকল্পনা ছিল রবিবার আসার। বলছিলেন, ‘মেয়ে-বউকে ডেকে নিলাম। মাস মাইনেও পেয়ে গিয়েছি। মনে হল, আজকেই যা ভিড়, রবিবার আরও বেশি হবে।’ আবার গড়িয়াহাটের বিকেলেও একই দৃশ্য। বেসরকারি সংস্থার তরুণ কর্মী ধোপদুরস্ত পোশাকে শপিং মলে প্রবেশ করছেন। বন্ধুদের বলছেন, ‘পুজোর মাসে মাইনে পেয়ে সবার আগে জামা কেনা দরকার। তাই অফিস থেকে বেরিয়েই সোজা গড়িয়াহাটে এলাম।’ পুজোয় বৃষ্টি হবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। কিন্তু এখন তো বৃষ্টি নেই। তাতেই হবে। উত্সবে ভেসে যেতে প্রস্তুত বাঙালি।