Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বহু চিকিৎসকের সঙ্গে নার্সিংহোমের আঁতাত, ভাতারকাণ্ডে স্ক্যানারে বর্ধমান মেডিক্যালও

সরকারি হাসপাতালে করা হচ্ছে ‘নাম কে ওয়াস্তে’ চিকিৎসা। কোনওরকমে দু’-একটা ওষুধ লিখে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। ভালো চিকিৎসা পাওয়ার জন্য রোগীদের তাঁদের চেম্বারে যেতে ‘অ্যাডভাইস’ দেওয়া হচ্ছে।

বহু চিকিৎসকের সঙ্গে নার্সিংহোমের আঁতাত, ভাতারকাণ্ডে স্ক্যানারে বর্ধমান মেডিক্যালও
  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: সরকারি হাসপাতালে করা হচ্ছে ‘নাম কে ওয়াস্তে’ চিকিৎসা। কোনওরকমে দু’-একটা ওষুধ লিখে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। ভালো চিকিৎসা পাওয়ার জন্য রোগীদের তাঁদের চেম্বারে যেতে ‘অ্যাডভাইস’ দেওয়া হচ্ছে। বাইরে চেম্বার করে একশ্রেণির সরকারি চিকিৎসক প্রতিদিনই মোটা টাকা ঘরে তুলছেন। শুধু ভাতার গ্রামীণ হাসপাতাল নয়, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেরও এরকম বেশকিছু চিকিৎসক স্বাস্থ্যদপ্তরের স্ক্যানারে রয়েছেন। তাঁরা ডিউটি ফাঁকি দিয়ে নার্সিংহোম বা চেম্বারে প্র্যাকটিস করছেন। তাতে রোগীর আত্মীয়দের ক্ষোভ বাড়ছে। তবে ভাতার গ্রামীণ হাসপাতালে এক চিকিৎসকের কীর্তি ফাঁস হওয়ার পর স্বাস্থ্যদপ্তর নড়েচড়ে বসেছে। ভাতার গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে এক রোগীকে নবাবহাটে রেফার করা হয়। সরকারি নথিতে নার্সিংহোমের নাম উল্লেখ করে দেওয়া হয়। তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম বলেন, ভাতারের ঘটনা নিয়ে বিএমওএইচ রিপোর্ট দিলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Advertisement

স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সরকারি হাসপাতালে ডিউটি ফাঁকি দেওয়া চিকিৎসকদের দ্রুত চিহ্নিত করা হবে। বর্ধমানের নবাবহাট এবং খোসবাগান দক্ষিণবঙ্গের ‘মেডিক্যাল হাব’ হয়ে উঠেছে। রোগীর অভাব হয় না। অসম থেকেও রোগীরা চিকিৎসা করাতে আসেন। এই ‘বাজার’ ধরতে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং অন্যান্য জেলায় পোস্টিং থাকা চিকিৎসকরাও এখানে এসে প্র্যাকটিস করছেন। রোগীর আত্মীয়দের দাবি, সরকারি হাসপাতালে তাঁরা ভালোভাবে চিকিৎসা করলে রোগীদের নার্সিংহোমে আসতে হতো না। সরকারি হাসপাতালে পরিকাঠামোর অভাব নেই। তারপরও সেখানে তাঁদের ঠিকমতো চিকিৎসা হচ্ছে না। টাকার লোভে পরিকাঠামো না থাকা নবাবহাটের নার্সিংহোমগুলিতে রোগীদের রেফার করা হচ্ছে। বর্ধমানের তেলিপুকুরের বাসিন্দা সুদীপ্ত দাস বলেন, কয়েকদিন আগে আমার এক আত্মীয়ের স্ট্রোক হয়। তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তাঁর ঠিকমতো চিকিৎসা করা হয়নি। বাইরে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করার জন্য স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এরকম ঘটনা হামেশাই হচ্ছে। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা বাইরে চেম্বার করছেন। সেখানে রোগীদের নিয়ে গেলে টাকার বিনিময়ে ভালোভাবে দেখা হচ্ছে। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বলেন, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা মোটা টাকা বেতন পান। তারপরও তাঁরা রোগীদের নার্সিংহোমে চিকিৎসা করার পরামর্শ দিচ্ছেন। এটা মানা যায় না। চিকিৎসকরা হাসপাতালে ঠিকমতো ডিউটি করছেন কি না, তা দেখার জন্য আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলব।
পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ শান্তনু কোনার বলেন, ভাতারে অভিযুক্ত চিকিৎসককে কড়া শাস্তি দিতে হবে। সেই দাবিতে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে আমরা স্মারকলিপি দেব। মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষের কথা ভেবে এই হাসপাতালে কয়েকদিন আগে ১০০টি নতুন বেডের উদ্বোধন করেছেন। অথচ একশ্রেণির চিকিৎসক টাকার লোভে অনিয়ম করছেন। তাতে স্বাস্থ্যদপ্তরের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এটা মানা হবে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ