সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: প্রাচীন শহর বর্ধমান। এই শহরের অলিগলিতে ছড়িয়ে রয়েছে রাজকাহিনী। ঐতিহাসিক নিদর্শনও রয়েছে নানা প্রান্তে। আধুনিকতাতেও এগিয়ে রয়েছে এই শহর। পুরনো বাড়ি ভেঙে মাথা তুলছে বহুতল। শহরের রাস্তায় দামি গাড়ির ভিড়ে যানজট নিত্যদিনের সমস্যা হয়েছে। আর্থিকভাবে সমৃদ্ধ হয়েছে বর্ধমান। নাগরিকদের আগের তুলনায় চাহিদা অনেক বেড়ে গিয়েছে। বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস বলছিলেন, পাঁচ বছরে বহু কাজ করেছি। সেটা বর্ধমানের মানুষ জানেন। বিধায়ক তহবিলে তিন কোটি ৩০লক্ষ টাকা পেয়েছিলাম। সবটাই সময়ে খরচ করে দিয়েছি। হাসপাতালে সিসি ক্যামেরার বন্দোবস্ত করেছি। শহরের রাস্তাঘাটে নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য ক্যামেরা বসানো হয়েছে। যেখানে পথবাতির দরকার সেখানে আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। শহরের ছেলেমেয়েদের জন্য বিনামূল্যে কম্পিউটার শেখানোর বন্দোবস্ত করেছি। কঙ্কালেশ্বরী মন্দিরে সৌন্দর্যায়নের কাজ করা হয়েছে। এখনও অনেক কাজ বাকি রয়েছে। সেগুলি নিশ্চয়ই করব।
শহরের বাসিন্দারা বলছেন, বিধায়কের অন্যতম প্লাস পয়েন্ট তাঁকে প্রতিদিনই এলাকায় পাওয়া যায়। মানুষ কথা বলার সুযোগ পান। তবে শহরের যে কাজগুলি করা দরকার ছিল সবটা হয়নি। বর্ধমানের নিকাশি ব্যবস্থা বেহাল। ভারী বৃষ্টি হলেই শহরের বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে যায়। গোলপবাগে চায়ের দোকানে বসেছিলেন অনুপ বৈরাগী। তিনি বলেন, শহরের বহু রাস্তা জবরদখল হয়ে যাচ্ছে। খোসবাগান সহ বিভিন্ন এলাকায় চলাফেরা করা দায়। সেটা বিধায়কের দেখা দরকার ছিল। কিছু এলাকায় পানীয় জলেরও সমস্যা রয়েছে। সেটাও সমাধান করা দরকার। টোটোর দৌরাত্ম্যে রাস্তায় চলাফেরা করা দায়। একটি নির্দিষ্ট নিয়ম করা দরকার ছিল। তবে বিধায়কের ভূমিকা খারাপ নয়। কোনও সমস্যা হলে তাঁকে পাওয়া যায়।
বিজেপি নেতা মৃত্যুজ্ঞয় চন্দ্র বলেন, কার্জনগেটে কয়েকটি বোর্ড লাগালেই তাকে উন্নয়ন বলে না। শহরজুড়ে অবৈধ নির্মাণ হচ্ছে। বিধায়ককে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়নি। একের পর এক জলাভূমি ভরাট হয়ে গিয়েছে। সবটাই হয়েছে তৃণমূল নেতাদের মদতে। গোদা সহ বিভিন্ন এলাকায় সিন্ডিকেটরাজ চলছে। বাড়ি তৈরি করতে গেলেও টাকা দিতে হয়। কংগ্রেস নেতা গৌরব সমাদ্দার বলেন, পাঁচ বছরে তৃণমূল নেতাদেরই উন্নয়ন হয়েছে। শহর পিছিয়ে গিয়েছে।
পাল্টা বিধায়ক বলছেন, অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বহু পুকুর ভরাট বন্ধ হয়েছে। যারা পুকুর ভরাট করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি শহরের সৌন্দর্যায়নেও জোর দেওয়া হয়েছে। কার্জনগেট চত্বর সাজিয়ে তোলা হয়েছে। আমি মনে করি বাঁকা খাল সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। আগামী দিনে সেই কাজ করার আমাদের মূল টার্গেট থাকবে। সেটা হলে শহরের নিকাশির সমস্যা অনেকটাই মিটে যাবে।