লিসবন: ম্যাচের বয়স মাত্র ২২ মিনিট। বল দখলের লড়াইয়ে প্রতিপক্ষ ফুটবলারকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন পাও কুবার্সি। অ্যাওয়ে ম্যাচে ১০ জনে হয়ে পড়ে বার্সেলোনা। আনুপাতিক সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঘরের মাঠে আক্রমণের ঝড় তোলে বেনফিকা। তবে তিনকাঠির নীচে অভিজ্ঞ সেজনির পারফরম্যান্স আর দ্বিতীয়ার্ধে করা রাফিনহার দুরন্ত গোলে অ্যাওয়ে ম্যাচে জয় ছিনিয়ে নিল হান্স ফ্লিকের ছেলেরা। সেই সুবাদে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শেষ আটের পথে এক পা বাড়িয়ে রাখল বার্সা। আগামী মঙ্গলবার ফিরতি পর্বে ঘরের মাঠে নামবে বার্সা।
২০২১-২২ মরশুমে বেনফিকার কাছে হেরে টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল জাভি হার্নান্ডেজের বার্সা। তবে সেই দলের সঙ্গে বর্তমান স্কোয়াডের রয়েছে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। এই দলে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ম্যাচ জেতানোর ফুটবলার অনেক বেশি। তাই একজন কম নিয়েও ট্যাকটিক্যাল ফুটবলে বাজিমাত লিওয়ানডস্কিদের। বুধবার লিসবনের মাটিতে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল মেলে ধরে দু’দল। প্রথম মিনিটেই লিড নেওয়ার সুযোগ এসেছিল বেনফিকার সামনে। তবে দলের নিশ্চিত পতন আটকান সেজনি। ১২ মিনিটের মাথায় একই আক্রমণ থেকে তিনবার বার্সা অ্যাটাকারদের শট রুখে দেন বেনফিকা দুর্গপ্রহরী। এরপরই বক্সের ঠিক বাইরে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন কুবার্সি।
প্রথমার্ধে আরও দু’বার দলের পতন আটকান বার্সা গোলরক্ষক। এই পর্বে রক্ষণ মজবুত করতে ওলমোর পরিবর্তে আরাহোকে মাঠে আনেন ফ্লিক। ৪-৩-৩ ফর্মেশন বদলে ফেলেন ৪-৪-১। দ্বিতীয়ার্ধে উইং নির্ভর ফুটবল মেলে ধরে বার্সা। আর তাতেই চাপে পড়ে যায় বেনফিকা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৬১ মিনিটে দুরন্ত গোলে দলকে এগিয়ে দেন রাফিনহা। প্রতিপক্ষের মিস পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শটে জাল কাঁপান ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গারটি (১-০)। পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফেরার মরিয়া প্রয়াস চালায় বেনফিকা। তবে বার্সা গোলরক্ষকের বিশ্বস্ত দস্তানায় রুখে যায় তাদের যাবতীয় আক্রমণ।
ম্যাচে ঘরের মাঠে বেয়ার লেভারকুসেনকে ৩-০ গোলে হারাল বায়ার্ন মিউনিখ। জোড়া লক্ষ্যভেদে ম্যাচে নায়ক হ্যারি কেন। এছাড়া স্কোরশিটে নাম তোলেন জামাল মুসিয়ালা। শেষলগ্নের গোলে অ্যাওয়ে ম্যাচে পিএসজি’কে হারিয়ে অ্যাডভান্টেজে লিভারপুল। ৮৭ মিনিটে লক্ষ্যভেদ হার্ভে এলিয়টের। অন্যদিকে, ফেয়েনুর্ডকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ আটের পথে এক পা বাড়িয়ে রাখল ইন্তার মিলান।