২ কেজি সোনা, ১২ কেজি রুপোয় সেজে উঠবেন বারাসতের বড়ো মা
  • ৭ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: কালীপুজোর মরশুম এলেই শুরু হয় থিমের প্রতিযোগিতা। কোন মণ্ডপে কী চমক, কোন আলোকসজ্জায় কতটা অভিনবত্ব—তা নিয়ে দর্শকদের কৌতূহলের শেষ নেই। বারাসত ও মধ্যমগ্রামে এটাই সব চেনা ঘটনা। কিন্তু এই উৎসব-উন্মাদনার মাঝেও একটি ঠিকানা রয়েছে, যেখানে দর্শক টানার জন্য নতুন কোনো ভাবনার প্রয়োজন পড়ে না। সেখানে মানুষের টান বছরের পর বছর একইরকম। কারণ, সেই টান মণ্ডপের প্রতি নয়, মায়ের প্রতি।

Advertisement

বারাসতের বড়োমা যেন শহরের কাছে কোনো পুজো কমিটির আরাধ্য দেবী নন, ঘরেরই একজন। এই সম্পর্কের বয়সের এবার ৮৫ বছর। স্বাধীনতার আগের সময়ে স্থানীয় কয়েক জন লরি ব্যবসায়ীর হাত ধরে যে পুজোর সূচনা, আজ তা বারাসতের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। শুরুর দিনগুলিতে ছিল না স্থায়ী মন্দির, ছিল না বিপুল আয়োজন। পুজোর পরদিনই বিসর্জন দেওয়া হত প্রতিমা। সময়ের সঙ্গে বদলেছে পুজোর পরিসর, তৈরি হয়েছে স্থায়ী মন্দির। কিন্তু বদলায়নি বড়োমাকে ঘিরে মানুষের আবেগ। চাঁপাডালি মোড় লাগোয়া লরিস্ট্যান্ড সংলগ্ন কলোনি মোড়ের রাস্তার ধারে বড়োমা কালীর মন্দির। প্রতিদিন কত মানুষ যে এখানে দাঁড়িয়ে পড়েন, তার কোনো হিসাব নেই। কেউ অফিস থেকে ফেরার পথে, কেউ-বা বাজার করতে বেরিয়ে কিংবা নিছক মায়ের দর্শনটুকু পাওয়ার আশায়। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে পুজো দেওয়ার অবকাশ না-থাকলেও মন্দিরের সামনে এক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে প্রণাম করেই এগিয়ে যান অনেকে। 
দেবীর বিশালাকার মূর্তিও এই পুজোর অন্যতম আকর্ষণ। মুকুটসহ মায়ের উচ্চতা প্রায় ২৪ ফুট। পরনে থাকে প্রায় ২ কেজি সোনা এবং ১২ কেজি রুপোর অলংকার। পুজোর আগে ব্যাংকের লকার থেকে বের করা হয় বিপুল পরিমাণ গয়না। চলে পালিশ ও সাজসজ্জার প্রস্তুতি। এবছরও শনিবার সেই অলংকারেই সাজিয়ে তোলা হবে বড়োমাকে। 
এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একাধিক লোকাচার। বিশেষ করে দণ্ডি কাটার রীতি। মানত পূরণের আশায় পুজোর রাতে কয়েকশো মানুষ দণ্ডি কেটে মন্দিরে পৌঁছান। কেউ কেউ আবার নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী বুকের রক্ত নিবেদন করেও মায়ের কাছে প্রার্থনা জানান। 
পুজো কমিটির সম্পাদক সুব্রত চন্দ্রের কথায়, বড়োমা শুধু বারাসতের নন, গোটা জেলার মানুষের আবেগ। স্বাধীনতার আগে স্থানীয় লরি ব্যবসায়ীদের হাত ধরে যে পুজোর শুরু হয়েছিল, আজ তা মানুষের বিশ্বাসে অনেক বড়ো জায়গা করে নিয়েছে। সেই বিশ্বাসের টানেই প্রতিবছর দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা ছুটে আসেন মন্দিরে। বারাসতের কালীপুজোয় এবারও আলো ঝলমলে মণ্ডপ থাকবে, থাকবে থিমের চমক। কিন্তু বড়োমায়ের দরবারে সেই প্রতিযোগিতার কোনো জায়গা নেই। সেখানে ৮৫ বছরের পুরানো এক সম্পর্কই সবচেয়ে বড়ো আয়োজন।