নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: তিরিশ বছরের পুজো। শাস্ত্র মেনে দেবীর আরাধনা চলে আসছে গ্রামে। উপোস করে পুজোর আচার পালন করেন মহিলারা। সেই পুজোতে এ বার ‘বাধা’ দেওয়ার অভিযোগ। শুক্রবার রাতে বারাসতের পালপাকুরিয়ায় একটি দুর্গাপুজোর মণ্ডপের চূড়ায় ধ্বজা লাগানো এবং প্রবেশপথে কালো কাপড় টাঙিয়ে পুজো বন্ধের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। পুজোটিকে ‘জিহাদিদের পুজো’ বলেও কটূক্তি করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় আতঙ্কিত উদ্যোক্তা থেকে স্থানীয় মহিলারা। বারাসত পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের পালপাকুরিয়া এলাকায় সপ্তর্ষি সংঘের উদ্যোগে স্থানীয় অধিবাসীবৃন্দের এই সর্বজনীন দুর্গাপুজো হয়ে আসছে গত ৩০ বছর ধরে। অভিযোগ, এদিন রাতে প্রায় একটা নাগাদ মণ্ডপে চড়াও হয় সাত-আটজন। মণ্ডপের চূড়ায় ধ্বজা টাঙানোর পাশাপাশি প্রবেশপথে কালো কাপড় টাঙায় তারা। খবর পেয়ে কয়েকজন উদ্যোক্তা বাধা দেন। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ বাধা দিলেও পাত্তা দেওয়া হয়নি। পুজো কমিটির সম্পাদক জয়গোপাল দাসের অভিযোগ, কমিটির অনুমতি ছাড়াই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। সটান প্যান্ডেলে উঠে উপরে গেরুয়া পতাকে টাঙিয়ে দেওয়া হয়। আর আমরা জিহাদি হয়ে গেলাম! অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে হবে।
এক স্থানীয় মহিলার কথায়, আতঙ্কে আছি। উদ্যোক্তারা বারাসত থানায় খবর দিলে মণ্ডপে পৌঁছয় পুলিশ। উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে কালো কাপড় খুলে দেওয়া হয়। পুজো চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করা হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। পুলিশ সুপার জে মার্সি বলেন, পুলিশ বিষয়টি নজরে রেখেছে। ওখানে পুজো হচ্ছে। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।



