নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও জরুরি মেরামতির জন্য মঙ্গলবার বিকেল থেকে আগামী ১৩ আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ বারাসত ফ্লাইওভারে যান চলাচল। পূর্তদপ্তরের বারাসত ডিভিশনের ইঞ্জিনিয়াররা ফ্লাইওভারের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন। পাশাপাশি দু’দিকের নীচের অংশে ধরা পড়া ফাটল মেরামত ও ক্ষতিগ্রস্ত ১৪টি বিয়ারিং বদল বা সংস্কারের কাজও হবে। বামফ্রন্ট আমলে জেলা সদর বারাসতের ১২ নম্বর রেলগেটের উপর নির্মিত হয় এই ফ্লাইওভার। একদিকে চাঁপাডালি মোড়, অন্যদিকে কলোনি মোড়কে যুক্ত করেছে এটি। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন এই ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে যাতায়াত করে। কয়েক বছর আগে ফ্লাইওভারের গার্ডার ও বিয়ারিংয়ের সংস্কারের কাজ করা হলেও গত ছয়-সাত বছরে এর কোনো পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়নি। পূর্তদপ্তরের পক্ষ থেকেও নিয়মিত পরিদর্শন করা হয়নি বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘদিন স্বাস্থ্য পরীক্ষা না হওয়ার জেরে সম্প্রতি ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে গাড়ি চলাচলের সময় অস্বাভাবিক কম্পন অনুভূত হতে শুরু করে। প্রথমে বিষয়টি নজরে আসে ফ্লাইওভারের নীচে থাকা হকারদের।
অবশেষে পূর্তদপ্তরের বারাসত ডিভিশনের ইঞ্জিনিয়ার ও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকেরা ব্রিজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। সেই পরিদর্শনেই ফ্লাইওভারের দু’দিকের নীচের অংশে ফাটল এবং ১৪টি বিয়ারিংয়ে ত্রুটি ধরা পড়ে। নিরাপত্তার স্বার্থে জেলা প্রশাসন যান চলাচলে একাধিক বিধিনিষেধ জারি করে। প্রথম পর্যায়ে ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফ্লাইওভারের দু’প্রান্তে বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে সতর্কীকরণ বোর্ড লাগানো হয় এবং ২৪ ঘণ্টা সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েন করা হয়। গত দুই সপ্তাহ ধরে বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও ছোটো চার চাকার গাড়ি চলাচলের অনুমতি ছিল। এরমধ্যেই ফ্লাইওভারের নীচের অংশে প্রাথমিক মেরামতির কাজ শুরু করে পূর্তদপ্তর। তবে এবার সার্বিকভাবে ফ্লাইওভারের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও মেরামতির কাজ শুরু হওয়ায় মঙ্গলবার বিকেল থেকে সম্পূর্ণ ফ্লাইওভার বন্ধ করে দেওয়া হল।
ফ্লাইওভার বন্ধ থাকায় যাত্রীবাহী বাসের রুটেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল থেকে ফ্লাইওভার সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরই বারাসত শহরজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এই প্রসঙ্গে বারাসতের ডিএসপি (ট্রাফিক) নিহার রঞ্জন রায় বলেন, স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মঙ্গলবার থেকে আগামী ১৩ আগস্ট পর্যন্ত বারাসত ফ্লাইওভার পুরোপুরি বন্ধ। নিজস্ব চিত্র