


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: শুক্রবার রাতে মহিলার শ্লীলতাহানি, তোলাবাজি, মারধর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন বরানগরের আইএনটিটিইউসি নেতা শংকর রাউত। বরানগর হাসপাতাল চত্বর থেকে ঘনিষ্ঠ পাঁচ শাগরেদ সহ শংকরকে গ্রেপ্তার করে বরানগর থানার পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছে অর্পণ দত্ত, দেবাশিস দাস, সুবল দে, সুব্রত সরকার ও দেবজ্যোতি বণিক ওরফে বনি। ধৃতদের বারাকপুর আদালতের বিচারক দু'দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে বরানগরের লেবুবাগান এলাকায় এক মহিলার উপর হামলার অভিযোগ ওঠে শংকর ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, মহিলাকে মারধরের পাশাপাশি শ্লীলতাহানিও করা হয়। আক্রান্ত মহিলার চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে অর্পণ ও বনিকে ধরে মারধর করেন। খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছন শংকরবাবু। অভিযোগ, তিনি অভিযুক্তদের স্থানীয়দের হাত থেকে উদ্ধার করে নিজের গাড়িতে তুলে বরানগর হাসপাতালে ভর্তি করান। পরে নির্যাতিতার অভিযোগের বিত্তিতে পুলিশ শংকর সহ ছ’জনকে গ্রেপ্তার করে। যদিও তৃণমূলের দাবি, শুক্রবার রাতে বিজেপির কিছু কর্মী শংকরের কয়েকজন অনুগামীকে লেবুবাগান এলাকায় মারধর করে। আক্রান্তদের নিয়ে পুলিশ স্টিকার সাঁটা গাড়িতে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন শংকরবাবু। ওই গাড়িটি ভোটের সময় পুলিশ ভাড়ায় নিয়েছিল। কিন্তু হাসপাতালে তাঁদের ঘিরে ধরে বিক্ষোভ শুরু করে বিজেপি কর্মীরা। কী ভাবে একজন তৃণমূল নেতা পুলিশের স্টিকার লাগানো গাড়িতে ঘুরছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপর বিজেপি কর্মীদের অভিযোগের ভিত্তিতে শংকর ও তাঁর দলবলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে শংকর ও তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে এক ইন্টিরিয়র ডিজাইনারকে মারধর সহ ২০২৪ সালে বরানগর বিধানসভার উপনির্বাচনের দিন বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষের নির্বাচনী কার্যালয়ে সশস্ত্র অবস্থায় হামলা সহ একাধিক পুরানো অভিযোগ রয়েছে।