Bartaman Logo
৮ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হুগলিতে রেলের উচ্ছেদ ও পুনর্বাসন নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই চর্চায় বাঁশবেড়িয়া পুরসভা

হুগলিতে রেলের উচ্ছেদ ও পুনর্বাসন নিয়ে বিতর্ক চলছে। বাঁশবেড়িয়া পুরসভা ৫২টি পরিবারকে পুনর্বাসন দিয়েছিল। বিস্তারিত জানুন।

হুগলিতে রেলের উচ্ছেদ ও পুনর্বাসন নিয়ে  বিতর্কের মধ্যেই চর্চায় বাঁশবেড়িয়া পুরসভা
  • ৮ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: রেলের ধারাবাহিক উচ্ছেদ অভিযান ও পুনর্বাসন বিতর্ককে কেন্দ্র করে সরগরম হুগলি জেলা। রেলের জমিতে প্রায় ৫০-৬০ বছর ধরে গজিয়ে ওঠা বসতি, হকারদের নিয়ে প্রতিবাদ আন্দোলনে নেমেছে বামেরা। এই পরিস্থিতিতে চর্চায় আসছে ২০২৫ সালে বাঁশবেড়িয়া পুরসভার তদানীন্তন বোর্ডের একটি সিদ্ধান্ত। ওই বছর নানা মহলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে রেলের জমিতে থাকা ৫২টি পরিবারকে পুনর্বাসন দিয়েছিল বাঁশবেড়িয়া পুরসভা। সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগকে একত্রিত করে উচ্ছেদের মুখে দাঁড়িয়ে পরিবারগুলির জন্য জমির বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। স্থানীয় একটি পরিত্যক্ত ইটভাটার জমিতে সেই পরিবারগুলি নিজেদের বসতি গড়ে তুলেছে। উচ্ছেদ নিয়ে রেলের উদ্যোগ ও পালটা আন্দোলনের পর্বে ওই ঘটনা নিয়ে ফের চর্চা শুরু হয়েছে।

Advertisement

বাঁশবেড়িয়া স্টেশন লাগোয়া অবনীপল্লিতে বাস করতেন কৃষ্ণ দাস সহ আরও ৫১টি পরিবার। ২০২৫ সালে তাঁদের উচ্ছেদের নোটিস দেয় রেল। পরবর্তী সময়ে বাঁশবেড়িয়া পুরসভা ওই পরিবারগুলিকে বেলতলায় গঙ্গার পাড়ে বসিয়ে দেয়। প্রতিটি পরিবারকে বসত করার মতো জমি দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সময়ে সেই কথা স্মরণ করেছেন কৃষ্ণ। তিনি বলেন, পুরসভার তৎপরতায় পুনর্বাসন পেয়েছিলাম। নাহলে কী হত, জানি না। পুরসভা অবশ্য বাড়ি দেবে বলেছিল। তা আর হয়নি। বাঁশবেড়িয়ার তদানীন্তন চেয়ারম্যান আদিত্য নিয়োগী বলেন, ৫২টি পরিবারকে একটি ইটভাটার জমিতে পুনর্বাসন দিয়েছিলাম। পুরসভার তৎরপরতার পাশাপাশি স্থানীয় কিছু মানুষ এবং রেলের জায়গায় কাজ পাওয়া একটি কোম্পানি সহ অনেকেই উদ্যোগী হয়ে ওই পুনর্বাসন কর্মসূচিতে নানাভাবে সাহায্য করেছেন। সকলের উদ্যোগেই ৫২টি পরিবার নিজস্ব জমি পেয়েছিল। শুক্রবার রেলের উচ্ছেদ নোটিসের বিরোধিতা করে আন্দোলন নেমেছে সিপিএম। মগরার থার্মাল লাইনের রেলগেটের কাছে প্রাক্তন বিধায়ক আমজাদ হোসেন, জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মনোদীপ ঘোষ সহ সিপিএমের নেতৃত্ব বিক্ষোভ আন্দোলনে অংশ নেন। সম্প্রতি মগরায় উচ্ছেদের নোটিস দিয়েছে রেল। আমজাদ হোসেন বলেন, বাঁশবেড়িয়া পুরসভা যা করেছে, তা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। সেই সুযোগ সবসময় পাওয়া যায় না। তবে রাজ্য সরকার চাইলে উচ্ছেদের মুখে থাকা মানুষদের খাসজমির পাট্টা দিতে পারে। ডবল ইঞ্জিনের সরকার মানুষের ভিটেমাটি-রুজি-রোজগার না কেড়ে সে পথে কেন হাঁটছে না, সে প্রশ্নই আমরা তুলছি।
রা঩জ্যে পালাবদলের পরেই রেল হুগলি জেলাজুড়ে তাদের জমি দখলমুক্ত করতে উঠেপড়ে নেমেছে। শেওড়াফুলি, চুঁচুড়া, উত্তরপাড়া সহ একাধিক জায়গায় বুলডোজার চলেছে। হাজার হাজার মানুষ ঘরছাড়া, ব্যবসার সুযোগ হারিয়েছেন। এই অবস্থায় বাঁশবেড়িয়ায় পুনর্বাসনের বাস্তব কাহিনি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

সম্পর্কিত সংবাদ