নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বাঁকুড়া শহরে প্রতিবছর রথযাত্রায় দেখা যায় লোকারণ্য। রথের রশিতে টান দেওয়ার জন্য ভক্তরা বছরভর অপেক্ষা করে থাকেন। শহরের নতুনগঞ্জ ব্যাপারহাট কমিটির রথ বাঁকুড়ার মানুষের কাছে বড় রথ বলে পরিচিত। শ্যামসুন্দরের রথ পরিচিত ছোট রথ নামে। শতবর্ষপ্রাচীন এই দুই রথযাত্রা ঘিরেই শহরবাসীর আবেগ লক্ষ করা যায়।
বাঁকুড়া পুরসভার চেয়ারপার্সন অলকা সেনমজুমদার বলেন, রথের দিন শহরের মাচানতলায় আমরা স্বাস্থ্যশিবির করি। সেখানে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীরা উপস্থিত থাকেন। গরমে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা করা হবে। উল্টোরথেও একই ব্যবস্থা থাকবে।
১১৪বছর আগে সোনামুখীর শিল্পী রামদীন কর্মকার এই বড় রথ তৈরি করেছিলেন। প্রায় ২৮ফুট উঁচু অষ্টধাতুর রথ। শিল্পী রথের গায়ে নিজের নামের পাশাপাশি রাঢ়বঙ্গের গর্ব বাঁকুড়া-দামোদর রেল(বিডিআর) ও দুর্গাপ্রতিমা খোদাই করেছেন। ২০০৭সালে বড় রথের সংস্কার হয়। তবে ওই ভাস্কর্য অক্ষত রাখা হয়েছে। নতুনগঞ্জ ব্যাপারহাট রথযাত্রা কমিটির সম্পাদক দিলীপ আগরওয়াল বলেন, আমাদের রথে জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রার বিগ্রহ থাকে না। রাধাবল্লভ জিউ রথে অধিষ্ঠিত হন। প্রতিবছর পাঠকপাড়া থেকে পালকিতে বিগ্রহ রথঘরে নিয়ে আসা হয়। রথঘর তথা মন্দির থেকে সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ রথের যাত্রা শুরু হয়। শহরের ফিডার রোড, রানিগঞ্জ মোড় হয়ে পরিক্রমার পর ফের রথঘরেই যাত্রা শেষ হয়। একই রুটে উল্টো রথযাত্রা হয়। বড় রথের মতো শহরের ছোট রথও শতবর্ষপ্রাচীন বলে উদ্যোক্তারা জানান। সেখানে জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রার বদলে রথে সওয়ার হন শ্যামসুন্দর। রথের মধ্যে রাধাকৃষ্ণের বিগ্রহ থাকে। শ্যামসুন্দর রথ কমিটির সম্পাদক রাজীব দে বলেন, আমাদের রথযাত্রা ১৫০বছরের পুরনো। পিতলের তৈরি রথ শহরের পোদ্দারপাড়া থেকে বেরিয়ে ইন্দারাগোড়া, রানিগঞ্জ মোড়, বড়বাজার, মাচানতলা ট্রাফিক মোড় হয়ে ফের পোদ্দারপাড়ায় আসে। এবছর থেকে রথের পাকা ঠাকুরদালান তৈরি শুরু হয়েছে।
কেন্দুয়াডিহি বোলব্যোম কমিটির রথযাত্রা এবার তৃতীয় বর্ষে পদার্পণ করেছে। আয়োজক কমিটির তরফে হীরালাল চট্টরাজ বলেন, আগের দু’বছর ছোট করে উৎসব হয়েছে। এবার সাড়ে ১৪ফুট উঁচু ও সাত ফুট চওড়া লোহার তৈরি সোনালি রংয়ের রথে জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রা নগর পরিক্রমা করবেন। কেন্দুয়াডিহি রামকৃষ্ণ মিশন থেকে রথযাত্রার সূচনা হবে। কাটজুড়িডাঙ্গা হয়ে শহর পরিক্রমার পর ফের মিশনেই রথযাত্রা শেষ হবে। এছাড়া ইসকন, রামকৃষ্ণ মিশন সহ অন্য আয়োজকদের তরফে একাধিক রথ শহর পরিক্রমা করবে। ইসকনের রথ শহরের লালবাজার থেকে বের হয়ে তামলিবাঁধ হয়ে রাজগ্রাম অবধি যায়। বাঁকুড়ার পুলিস সুপার বৈভব তেওয়ারি বলেন, সুষ্ঠুভাবে রথযাত্রা আয়োজনের উদ্দেশ্যে আমরা জেলার প্রতিটি থানায় উদ্যোক্তাদের নিয়ে বৈঠক করেছি। বাঁকুড়ায় ছোট রথ তথা শ্যামসুন্দর রথ পরিষ্কার করা হচ্ছে। -নিজস্ব চিত্র