Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রেল প্রকল্প শেষ করার দাবিতে সংসদে সরব বাঁকুড়ার সাংসদ

ছাতনা-মুকুটমণিপুর ও বাঁকুড়া-দুর্লভপুর রেল লাইনের দাবিতে এবার সংসদে সরব হলেন বাঁকুড়ার সংসদ সদস্য অরূপ চক্রবর্তী।

রেল প্রকল্প শেষ করার দাবিতে সংসদে সরব বাঁকুড়ার সাংসদ
  • ১৯ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: ছাতনা-মুকুটমণিপুর ও বাঁকুড়া-দুর্লভপুর রেল লাইনের দাবিতে এবার সংসদে সরব হলেন বাঁকুড়ার সংসদ সদস্য অরূপ চক্রবর্তী। তাঁর অভিযোগ, সিংহভাগ জমি অধিগ্রহণের কাজ হয়ে গেলেও ছাতনা-মুকুটমণিপুর রেলপথের জন্য বাজেটে অর্থ বরাদ্দ করা হচ্ছে না। বারবার দাবি জানানোর পরেও বাঁকুড়া ও পশ্চিম বর্ধমানকে রেলপথের মাধ্যমে সংযুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না বলে সাংসদের অভিযোগ তোলেন। বাঁকুড়া শহর থেকে গঙ্গাজলঘাটি ব্লকের দুর্লভপুর পর্যন্ত রেল লাইন পাতলেই কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে বলে তাঁর দাবি। পাশাপাশি, বাঁকুড়া শহরের একটি আন্ডারপাস ও নিতুরিয়ার একটি রেল প্রকল্পকে কেন্দ্র করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। রেলের উন্নতির দাবিতে অরূপবাবু লোকসভায় সোচ্চার হওয়ায় শুধু বাঁকুড়া নয়, খুশি পুরুলিয়া জেলার বাসিন্দারাও। 

Advertisement

অরূপবাবু বলেন, ছাতনা-মুকুটমণিপুর প্রস্তাবিত রেলপথের ৭৫শতাংশ জমি অধিগ্রহণের কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পরও প্রকল্পের জন্য বাজেট বরাদ্দ হচ্ছে না। রানিগঞ্জ থেকে গঙ্গাজলঘাটির দুর্লভপুর পর্যন্ত রেলপথ রয়েছে। ওই রেলপথ দিয়ে রানিগঞ্জ খনি এলাকা থেকে মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা নিয়ে যাওয়া হয়। দুর্লভপুর থেকে বাঁকুড়া স্টেশনের দূরত্ব মাত্র ২২কিলোমিটার। ওইটুকু লাইন পাতলেই বাঁকুড়ার সঙ্গে পশ্চিম বর্ধমান তথা দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব রেলের মধ্যে সংযোগ হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে বাঁকুড়ার অর্থনীতির চেহারা পাল্টে যাবে। সাংসদ আরও বলেন, বাঁকুড়া শহরের ২০নম্বর ওয়ার্ড ও বাঁকুড়া-২ ব্লকের সানবাঁধা অঞ্চলের মধ্যে রেলের তরফে একটি আন্ডারপাস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাঁকুড়া-মশাগ্রাম শাখার রেল লাইনের ওই আন্ডারপাস তৈরি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত মেটাতে হবে। 
শুধু বাঁকুড়া নয়, পুরুলিয়ার ব্যাপারেও অরূপবাবু সোচ্চার হন। তিনি বলেন, পুরুলিয়ার নিতুরিয়াতেও রেলের একটি প্রকল্প(সা‌ই঩ডিং) হচ্ছে। তার আশপাশে লোকালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি রয়েছে। ওই প্রকল্পের কারণে স্থানীয়দের সমস্যা হবে। ফলে তা স্থানান্তর করলে ভালো হয়। সবচেয়ে বড় কথা, কাছাকাছি রেলের বিকল্প জায়গা রয়েছে। সেখানে তা স্থানান্তরের দাবি জানানো হয়েছে। আমি রেলমন্ত্রীকে এর আগে চিঠি দিয়েও দাবিগুলি জানিয়েছিলাম। এবার সংসদে বলেছি। আশা করি, রেলকর্তৃপক্ষ এব্যাপারে পদক্ষেপ করবে।
বাঁকুড়ার বাসিন্দা অমলেন্দু চট্টোপাধ্যায়, অমৃতা পাল বলেন, বাঁকুড়াকে দীর্ঘদিন ধরেই রেলমন্ত্রক বঞ্চিত করে রেখেছে। বহু লড়াই-আন্দোলনের পর বাঁকুড়া-দামোদর রেল(বিডিআর) ন্যারোগেজ থেকে ব্রডগেজ হয়েছে। পরে তা মশাগ্রামের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তবে এখনও বাঁকুড়া-আদ্রা, বাঁকুড়া-মশাগ্রাম, বাঁকুড়া-মেদিনীপুর শাখায় মেমু লোকালের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেকটাই কম। বাঁকুড়া থেকে বেশকিছু দূরপাল্লার মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেনের দাবিও পূরণ হয়নি। সাংসদ সরব হওয়ায় দাবিদাওয়া মিটবে বলে আমরা আশাবাদী।
এদিকে, রেলের বিভিন্ন প্রকল্প সংক্রান্ত দাবিদাওয়া নিয়ে সংসদে বাঁকুড়ার এমপির সরব হওয়ার ব্যাপারে আদ্রা ডিভিশনের আধিকারিকরা কোনও মন্তব্য করতে চাননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাঁকুড়ার এক রেল আধিকারিক বলেন, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ এলে সেইমতো পদক্ষেপ করা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ