নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বাঁকুড়া সদর থানার বগা গ্রামে শিশু খুনের ঘটনায় যথাযথ প্রমাণ জোগাড়ে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা পুলিস। খুনের অভিযোগে ধৃত ওই শিশুকন্যার বাবা প্রশান্ত বাউরির দেখানো জায়গা থেকে উদ্ধার হওয়া হাড়গোড়ের ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। এর আগে উদ্ধারের পর বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে হাড়গোড়ের ময়নাতদন্ত হয়। সেগুলির ফরেনসিক পরীক্ষাও করা হচ্ছে। তবে ওই হাড়গোড় ‘নিখোঁজ’ শিশুরই কি না, তা জানতে ডিএনএ পরীক্ষা জরুরি বলে পুলিসকর্তারা মনে করছেন। বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালীন বিষয়টি তথ্যসহকারে আদালতে উপস্থাপিত করতে না পারলে ধৃত প্রশান্তর সাজা নিশ্চিত করা মুশকিল হতে পারে বলে জেলা পুলিসের শীর্ষ আধিকারিকদের অভিমত। বাঁকুড়ার পুলিস সুপার বৈভব তেওয়ারি বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর উদ্ধার হওয়া হাড়গোড়গুলি এক থেকে দু’বছরের শিশুর বলে আমরা জানতে পেরেছি। ধৃত দম্পতি প্রশান্ত ও মণি বাউরির ছোট মেয়ের বয়স ছিল ১৫মাস। ফলে বয়সের সঙ্গে মিল পাওয়া গিয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়ার পর আরও কিছুটা নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার জন্য ডিএনএ পরীক্ষা জরুরি। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ধৃত দম্পতির শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। তারজন্য আদালতের অনুমতি প্রয়োজন। আমরা অনুমতির জন্য আদালতে আবেদন জানাব।
উল্লেখ্য, এক সপ্তাহ আগে বগা গ্রামের বাসিন্দারা সকালে উঠে প্রশান্তর একরত্তি মেয়ের ‘নিখোঁজ’ হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। ওই দম্পতি শিশুর অনুপস্থিতি নিয়ে চুরির গল্প ফাঁদে। তা সকাল থেকে প্রতিবেশী ও গ্রামের অন্যান্যদের বলতে শুরু করে। প্রথমে বিষয়টি সকলে বিশ্বাসও করেন। তবে দম্পতির অসংলগ্ন কথাবার্তায় পুলিসের সন্দেহ হয়। ঘটনার পর ডিএসপি ও অতিরিক্ত পুলিস সুপার পদমর্যাদার আধিকারিকরা ওই গ্রামে তদন্তে যান। পুলিস প্রথম থেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে শুরু করে। ফলে দ্রুত ঘটনার কিনারা করা সম্ভব হয়। পুলিসের টানা জেরার মুখে দম্পতি শিশুকে খুনের কথা স্বীকার করে নেয়। যাতে শেয়ালে খেতে পারে, তার জন্য খুনের পর ওই শিশুর দেহ প্রশান্ত গ্রাম লাগোয়া ঝোপ-জঙ্গলে ফেলে দিয়ে আসে। সেখান থেকেই পরে হাড়গোড় উদ্ধার হয়।
এক তদন্তকারী আধিকারিক বলেন, প্রশান্ত বর্তমানে পুলিস হেফাজতে রয়েছে। হেফাজতে থাকাকালীন কোনও অভিযুক্ত তার স্বীকারোক্তি আদালতের এজলাসেও যে বলবে, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। উল্টে আইনজীবীর কথামতো বেশিরভাগ সময় অভিযুক্তরা বয়ান বদলে ফেলে। ফলে জেরার সময় উঠে আসা তথ্য আমাদের খতিয়ে দেখতে হয়। অভিযুক্তদের জেরা করে পাওয়া সূত্র থেকে তদন্ত চালিয়ে প্রমাণ জোগাড় করতে হয়। তা আদালতে পেশ করতে পারলে অভিযুক্তের পরিত্রাণ পাওয়ার সুযোগ থাকে না। সেই কারণেই আমরা বগা গ্রামে শিশু খুন কাণ্ডে উদ্ধার হওয়া হাড়গোড়ের ডিএনএ পরীক্ষা করাতে চাইছি। স্ত্রীর কাছে এর আগে প্রশান্ত ছোট মেয়ের পিতৃত্ব অস্বীকার করেছিল। হয়তো আদালতে মেয়েকে খুনের কথাও সে বেমালুম অস্বীকার করে বসবে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ ওই মামলা নিয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হচ্ছে।