Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

৩৩ বছরের টানাপোড়েন, ব্যাঙ্কশালের রায়ই বহাল কলকাতার বিচারভবনে

১৯৯২ সালে বড়তলা থানা এলাকায় গাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছিল রেলের কাজে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ অ্যালুমিনিয়াম তার। সেই চুরির ঘটনায় আরপিএফ এক ব্যবসায়ীকে মামলায় অভিযুক্ত করে।

৩৩ বছরের টানাপোড়েন, ব্যাঙ্কশালের রায়ই বহাল কলকাতার বিচারভবনে
  • ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ১৯৯২ সালে বড়তলা থানা এলাকায় গাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছিল রেলের কাজে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ অ্যালুমিনিয়াম তার। সেই চুরির ঘটনায় আরপিএফ এক ব্যবসায়ীকে মামলায় অভিযুক্ত করে। তাঁর নাম রাজকুমার জয়সওয়াল। ঘটনার ৩২ বছর পর ২০২৪ সালে ব্যাঙ্কশাল আদালত অভিযুক্ত ব্যবসায়ীকে এক বছর কারাদণ্ড এক হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১৫ দিনের জেল হাজতের নির্দেশ দিয়েছিল। এবার ব্যাঙ্কশাল কোর্টের (নিম্ন আদালত) ওই আদেশ বহাল রাখল কলকাতার বিচারভবন। ৩৩ বছর ধরে চলছে টানাপো঩ড়েন। সম্প্রতি কলকাতার নগর দায়রা আদালতের ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের বিচারক কৌস্তভ মুখোপাধ্যায় ওই আদেশ বহাল রাখেন। আদালতের মন্তব্য, ২০২৪ সালের ব্যাঙ্কশাল আদালতের রায় যথাযথ। প্রয়োজন মনে করলে এই রায়ের বিরুদ্ধে মামলাকারী (ব্যবসায়ী) হাইকোর্টে যেতে পারেন। সরকারি আইনজীবীর মন্তব্য, এই রায়ে সরকার পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করছে। অপরাধীর বিরুদ্ধে দুটি আদালতেই চুরির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। আমরা সরকার পক্ষ থেকে নিম্ন আদালতের যাবতীয় সাক্ষ্য প্রমাণ কোর্টের কাছে তুলে ধরি। যদিও সাজাপ্রাপ্ত ওই ব্যবসায়ীর তরফে আদালতে দাবি করা হয়েছিল, নিম্ন আদালতের রায় যথাযথ ছিল না। তাই ন্যায় বিচারের স্বার্থেই তারা কলকাতা জেলা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।                        

Advertisement

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৯২ সালে ২১ এপ্রিল আরপিএফ উত্তর কলকাতার এ পি সি রোডে হানা দিয়ে একটি গাড়ি থেকে উদ্ধার করে প্রচুর পরিমাণ অ্যালুমিনিনাম তার। এই ঘটনায় রেলের সুরক্ষা বাহিনীর (আরপিএএফ) তরফে একটি চুরির মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত চালিয়ে ওই ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে অবশ্য তিনি জামিন পান। আদালতে তদন্তকারী সংস্থার তরফে বলা হয়েছিল, উদ্ধার হওয়া তার খোলা বাজারে বিক্রি হয় না। ওই তার বৈদ্যুতিক রেল চলাচলের কাজে  ব্যবহার করা হয়। সবটাই রেলের সম্পত্তি। তদন্ত শেষ করে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করা হয়। সেই মামলার শুনানি শেষ হতে গড়িয়ে যায় বছরের পর বছর। নানা কারণে মামলার গতি শ্লথ হয়ে পড়ে। নানা আইনি জটিলতা কাটিয়ে গত বছরের আগস্ট মাসে ব্যাঙ্কশালের বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করে। এরপরই ব্যাঙ্কশাল আদালতের এই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে সাজাপ্রাপ্ত ব্যবসায়ী বিচারভবনের দ্বারস্থ হন। ব্যাঙ্কশাল আদালতের মুখ্য সরকারি কৌঁসুলি অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘বহু দিন আগের মামলা। শেষ পর্যন্ত অপরাধীর সাজা বিচারভবন বহাল রাখল, এর থেকে ভালো আর কী হতে পারে। অন্যায় করলে যে পার পাওয়া যায় না, সেটাই আরও একবার প্রমাণিত হল।’  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ